সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট
- নোনা পানি শোধন করে পাইপলাইনে সরবরাহের পরিকল্পনায় সরকার: শাহে আলম
- কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত হতে পারবেন না বিচারকরা
- উপকূলে খাবার পানিতে লবণাক্ততা, হৃদরোগের ঝুঁকিতে ৫ জনে একজন
দীর্ঘদিন ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসের পর প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে আবারও যুক্তরাজ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবেন বলে জানা গেছে। তাদের এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে ব্রিটিশ জনমনে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে—মেগান কি অভিনয়ে ফিরবেন? হ্যারি কি রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আবারও মূলধারার কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন? সন্তানদের শিক্ষা ও রাজকীয় অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
মেগানের অভিনয়ে ফেরার বিষয়টি নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। শোনা যাচ্ছে, নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য জেন্টলমেন’-এর তৃতীয় মৌসুমে তাকে দেখা যেতে পারে। ব্রিটিশ নির্মাতা গাই রিচির এই সিরিজের শুটিং ইংল্যান্ডের কটসওল্ডস এলাকায় হয়, যেখানে হ্যারি-মেগান তাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে মেগান যে পেশাগত জীবনে ফেরার আগ্রহ রাখেন, তা তার বিভিন্ন আলাপচারিতায় স্পষ্ট। এছাড়া পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থনৈতিক দিকটিও তাদের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, হ্যারির মূল মনোযোগ থাকবে দাতব্য কাজ ও বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতার ওপর। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের স্মরণে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি। বিশেষ করে আফগানিস্তানে আহত হয়ে মারা যাওয়া সার্জেন্ট মাইকেল ভেরার্ডোর পরিবারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ বেশ আলোচিত হয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়েলচাইল্ড অ্যাওয়ার্ডস’-এ হ্যারির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী জুলাইয়ে বার্মিংহামে আয়োজিত ‘ইনভিকটাস গেমস’ নিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় পার করবেন। এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যদি রাজা তৃতীয় চার্লস উপস্থিত থাকেন, তবে বহু বছর পর বাবা ও ছেলেকে জনসমক্ষে একই মঞ্চে দেখা যাওয়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও এটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নয়, তবে আয়োজকদের মধ্যে এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
কটসওল্ডসের শান্ত পরিবেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না। ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে তাদের বাড়িটি বজায় থাকবে এবং হ্যারির শাশুড়ি ডোরিয়া র্যাগল্যান্ড নাতি-নাতনিদের দেখাশোনায় সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। এছাড়া পর্তুগালের মেলিদেসে তাদের একটি অবকাশকালীন বাড়ি রয়েছে, যা প্রিন্সেস ইউজেনি ও তার স্বামীর সম্পত্তির কাছাকাছি অবস্থিত।
রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো পুরোপুরি কাটেনি। রিমেমব্রেন্স সানডে বা বড়দিনের মতো রাজকীয় অনুষ্ঠানে হ্যারি-মেগানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। রাজপরিবারের অন্দরে বিশ্বাসের সংকট ও অস্বস্তির বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। হ্যারির দল একে ‘দীর্ঘ সময়ের’ জন্য ফেরা হিসেবে অভিহিত করলেও, এটি স্থায়ী প্রত্যাবর্তন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মূলত সন্তানদের ব্রিটিশ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং দাদা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এবার তাদের ব্রিটিশ জীবন ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব প্রশ্নের সব উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিবিসি বলছে, যুক্তরাজ্যে ফেরার খবরের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মেগানের অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে। চাকরির আরও তথ্য: গত বছর ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও পডকাস্টার এমা গ্রেডের সঙ্গে আলাপকালে নিজের নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘উইথ লাভ, মেগান’ নিয়ে কথা বলেছিলেন মেগান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অভিনয়ের দিনগুলো মিস করেন কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, সন্তানদের স্কুল, নিয়মিত যাতায়াত, সব মিলিয়ে হ্যারি-মেগানের জীবন বেশ ব্যয়বহুল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হ্যারি নিজেও সেনাবাহিনীতে থাকার সময় দুটি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।






