নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতে সৌদি আরব ও সিরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এই সামরিক জোট গঠনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সৌদি আরব এবং সিরিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রিয়াদ সফরে এসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি এক মাসের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এই বৈঠকেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়। যদিও চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, হুথি বিরোধী লড়াইয়ে সিরিয়া ও সৌদি আরব একে অপরের অভিজ্ঞতা ও সামরিক কৌশল বিনিময়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হুথি বিরোধী এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সিরিয়া সৌদি আরবকে কী ধরনের সাহায্য করতে পারে, চুক্তিটির মাধ্যমে সেই ভিত্তি তৈরি হলো। এর আগে সিরীয় এক কূটনীতিক জানিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো সামরিক কিংবা অভিজ্ঞতা বিনিময় সরকারি চুক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
সামরিক সহায়তার পাশাপাশি সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি যেন অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে দেশটিকে ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি ঋণ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াদ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ার স্বাভাবিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান শক্তিশালী করতে সৌদি আরব নিরলসভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের মাধ্যমে দুই দেশই এখন দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের নতুন পথ খুঁজছে।






