যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পর অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতেও বড় ধরনের সাফল্যের পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটির প্রার্থীরা গভর্নর থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইনসভায় গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছেন। তবে দেশজুড়ে এই সাফল্যের মধ্যেও সেনেটের দুটি আসনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মোংলায় প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। হামের টিকায় অনিয়ম / অন্তর্বর্তী সরকারের দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত কমিশন গঠন। মার্কিন সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় আসন ইতোমধ্যে জোগাড় করে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, রক্ষণশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মিসিসিপিতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে এবং সেখানে ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, কারচুপির অভিযোগ ওঠা আলাস্কায় এখন পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এসব ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যটিতে ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আট কারণে উদ্বোধনের আগেই ‘লেজেগোবরে’ সাফ।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এই নির্বাচনী ফল অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি ‘ব্লু ওয়েভ’ বা বড় সাফল্যের বার্তা নিয়ে এসেছে। অন্তত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা গভর্নর পদ পুনর্দখল করেছে ডেমোক্র্যাটরা। সব মিলিয়ে ছয়টি অঙ্গরাজ্যের সরকার পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে দলটি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ঠিক এভাবেই বড় জয় পেয়েছিল। সেই জয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানরা পরবর্তীতে নির্বাচনী আইন প্রণয়ন ও কংগ্রেসের আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছিল। এবার ডেমোক্র্যাটদের সামনে ঠিক একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল বার্কম্যান। কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মোহসিনা আহমেদ মারা গেছেন।
টেক্সাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যেও বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা বিপুল অর্থের প্রচারণা চালানো রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় হিনোজোসা জানিয়েছেন, ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গভর্নর পদ ছাড়াও অঙ্গরাজ্যের আইনসভাগুলোতে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।
আইনসভার নিয়ন্ত্রণ অর্জনের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে। মিশিগান, মিনেসোটা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে আইনসভার উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তারা। জর্জিয়া, আইওয়া, ওহাইও ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এছাড়া জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সেক্রেটারি অব স্টেটদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছেন, যারা মূলত নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফল চূড়ান্ত করার দায়িত্বে থাকেন।
জর্জিয়া ও টেক্সাসের ভোটাররা এক দশকের বেশি সময়ের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত করেছেন। এই পরিবর্তন নিয়ে বাফেলোর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জিম বাতিস্তা মন্তব্য করেন, এর ফলে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হবে।
নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয়ের ফলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং গর্ভপাতের অধিকারসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব ব্যাপকভাবে বাড়বে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্রিস ওয়ারশ জানান, নতুন দায়িত্ব নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট নেতাদের সামনে উদারপন্থি আইন প্রণয়নের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টেক্সাস ও জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো রিপাবলিকানরা আইনসভার নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এসব দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ফলাফল ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






