অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরাইলি সামরিক চৌকিতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় দুই সেনা সদস্য নিহতের পর শুরু হয়েছে কঠোর দমনপীড়ন। ঘটনার জেরে ইসরাইলি বাহিনী হেবরনের ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙা ও বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত শুক্রবার ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সিএনএনের ধারণকৃত একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ইসরাইলি এক সেনাসদস্য ওই এলাকার বাসিন্দাদের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে নিজেদের বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দিচ্ছেন।
হামলা পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রাথমিকভাবে পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি মূলত হেবরন ও হালহুল শহর ঘিরে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী চার দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই হামলা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানের যে ভাবমূর্তি তিনি প্রচার করেন, এই ঘটনা সেই কৌশলের জন্য নতুন একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি’তসেলেম’ ফিলিস্তিনিদের এই উচ্ছেদ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক সতর্ক করে বলেছেন, এর মাধ্যমে উত্তর পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে অতীতে চালানো ধ্বংসযজ্ঞ ও উচ্ছেদের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অজুহাতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন ব্যবস্থা নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।






