চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে চলমান অস্থিরতার মুখে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরের দিকে কার্যালয়ের বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিলে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড। হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, মোট ১১৬৪।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এর আগে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘নতুন উপাচার্যকে মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার পদত্যাগের দাবি জানান। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শরীফুল আলম সকাল ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কায় সৌদিগামী কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, উপাচার্য নিজ পদে যোগ দেওয়ার আগে নিজেকে কেবল ‘শিক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রধান ফটক অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শাখা ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গী করে তিনি কার্যালয়ের দিকে যান এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া আগের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ಹಾಗೂ যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব জানান, শিক্ষক পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে তিনি তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন। তাকে চলে যাওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়, যার কারণে ভবনে আবারও তালা দেওয়া হয়েছে। অর্ণব আরও বলেন, শান্তিপূর্ন আন্দোলন বজায় রেখে তাকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হবে। এরপর তারা কী করবেন, জানতে চাইলে অর্ণব বলেন, ‘আমরা তাকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করার অনুরোধ জানাব।
উপাচার্যের সঙ্গে ভবনের ভেতরে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ কয়েকজন ছাত্রনেতাও আটকা পড়েছেন, যারা অধ্যাপক আলমকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের উদ্দেশ্যে ছিনিয়ে নিয়েছে এবং শিক্ষকদের একাংশ নিজেদের স্বার্থ হাসিলে শিক্ষার্থীদের উসকে দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষকরা বিকেলেই সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে নিশ্চিত করেছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বাসির।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই চুয়েটে সংঘাত ও অসন্তোষের শুরু। সাবেক উপাচার্যকে অপসারণের প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন, যাতে পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সমর্থন জানান। প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি।
চলমান এই শাটডাউন কর্মসূচির ফলে চুয়েটে গত ২০ দিন ধরে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
চুয়েট সংকটের আনুষঙ্গিক তথ্য
- শাটডাউনের মেয়াদ: গত ২০ দিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং আন্দোলন ১৫ দিনে গড়ায়।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত রয়েছে।
- শিক্ষার্থীদের অবস্থান: নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পরও অচলাবস্থা, চুয়েটের আন্দোলন গড়াল ১৫ দিনে।




