কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় সুমন বৈষ্ণব (৩৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত সুমন চকরিয়া পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটা এলাকার তুলসী বৈষ্ণবের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাকে গ্রেপ্তারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সলিমুল মোস্তফা জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত সুমন বৈষ্ণবকে সহায়তা করেছিলেন এজাহারনামীয় অন্য তিন আসামি। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবব্রত রায় তদন্ত শেষে সুমন বৈষ্ণবকে প্রধান অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের উত্তর পাশের সড়কে শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। দীর্ঘদিনের উত্ত্যক্তের শিকার ওই শিক্ষার্থী তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে হেঁটে ফেরার সময় সুমন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এসময় বাধা দিলে শিক্ষার্থীর মাকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই ছাত্রীকে মহাসড়ক থেকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (সংশোধিত ২০০৩) ৩০ ধারায় সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই আইনের ৭ ধারায় তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, যার অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড হবে। সব মিলিয়ে তাকে ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বাদীপক্ষ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে পিপি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এজাহারে থাকা অন্য তিন আসামি বিজয় দাশ, কৃষ্ণ পদ দাশ ও পিঠন বৈষ্ণব এ কাজে সুমনকে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভুক্তভোগীর মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে শিক্ষার্থীকে নিয়ে মহাসড়কে উঠে এস আলম বাস কাউন্টারের পাশে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় আরো বলা হয়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগপত্রে এজাহারের ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে বাদ দিয়ে সুমন বৈষ্ণবকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।





