শিশুর নিরাপত্তায় জিপিএস ট্র্যাকার: কেনার আগে যা জানা জরুরি

প্রকাশ:
Print news

বর্তমান সময়ে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে অনেক অভিভাবক জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি মূলত কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করে অভিভাবকের স্মার্টফোন বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্য পাঠায়। যদিও এটি নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয় না, তবে শিশুর সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে এটি বেশ সহায়ক হতে পারে।

জিপিএস স্যাটেলাইট নিজে থেকে কোনো ব্যক্তিকে অনুসরণ করে না, বরং পৃথিবীর দিকে বেতার সংকেত পাঠায়। ট্র্যাকার সেই সংকেত গ্রহণ করে নিজের অবস্থান হিসাব করে। এরপর মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সিম কার্ডের মাধ্যমে সেই তথ্য অভিভাবকের কাছে পৌঁছায়। তাই ট্র্যাকার নির্বাচনের সময় ফোর-জি সমর্থন, ব্যাটারি লাইফ, লোকেশন আপডেটের হার ও অ্যাপের কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি।

বাজারের ছোট ট্র্যাকারগুলোর মধ্যে একটি পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। এর আকার প্রায় ২.৫ × ৩.৫ × ১.৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২০ গ্রাম। এটি ব্যাগের বা পোশাকের ভেতরে রাখা সহজ। এছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ টাকার অন্য একটি ডিভাইসে ১ হাজার ৫০ এমএএইচ ব্যাটারি, জিওফেন্স ও রিয়্যাল-টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা আছে, যার ব্যাটারি প্রায় ২০ ঘণ্টা চলতে পারে।

আবার ৬ হাজার ৪৯৯ টাকার ডিভাইসে ১০ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মুভ মোডে ৩০ দিন এবং স্ট্যান্ডবাইয়ে ১২০ দিন পর্যন্ত সেবা দিতে পারে। তবে এর ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম এবং আকার ৭ × ৮ × ২ সেন্টিমিটার হওয়ায় এটি শিশুর শরীরে লুকিয়ে রাখা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

শিশুদের উপযোগী হিসেবে ইজিট্র্যাক্স পিএল২০০ মডেলটি পাওয়া যাচ্ছে ৮ হাজার টাকায়। এতে ফোর-জি এলটিই এবং বিডিএস পজিশনিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। এর পাশাপাশি হোকো ওয়াই১০৮ স্মার্টওয়াচটি ৩ হাজার ৯৯০ টাকায় কেনা সম্ভব, যেখানে এসওএস কল এবং সিম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা আছে। এর ৭৩০ এমএএইচ ব্যাটারি ১-২ দিন পর্যন্ত সচল থাকে।

বাংলাদেশের বাজারে ৭০০ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যের ডিভাইস পাওয়া যায়। তবে জিপিএস ডটগভের তথ্যমতে, সাধারণ স্মার্টফোন খোলা আকাশের নিচে ৪.৯ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থান দেখাতে পারলেও, ভবন বা দেয়ালের কারণে নির্ভুলতা ৫০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত কমতে পারে।

শিশুর জন্য ডিভাইস নির্বাচনের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন: ১. ডিভাইসটি ফোর-জি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে কি না, ২. জিপিএসের পাশাপাশি অন্য পজিশনিং ব্যবস্থা আছে কি না, ৩. অ্যাপটি নিয়মিত আপডেট হয় কি না, ৪. সিম ও ডেটা ব্যবহারের বাড়তি খরচ আছে কি না এবং ৫. ডিভাইসটি বাংলাদেশে বৈধ ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না।

অ্যাপল এয়ারট্যাগ বা অ্যান্ড্রয়েড ফাইন্ড হাবের মতো ব্লুটুথ ট্র্যাকারগুলোও বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু এগুলো সরাসরি ফোর-জি জিপিএস ট্র্যাকারের বিকল্প নয়। কারণ এগুলো নিয়মিত লোকেশন আপডেট পাঠাতে পারে না এবং এর কার্যকারিতা আশপাশের নেটওয়ার্ক ডিভাইসের ওপর নির্ভর করে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল একটি যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিশুকে নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে পরিচয় যাচাই এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা রাখা অধিক ফলপ্রসূ। এছাড়া ডিভাইসের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া বা নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঝুঁকিগুলোও মাথায় রাখা উচিত।

ট্র্যাকার এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যাতে সেটি শিশুর শরীরে আঘাত না করে বা কোনো অস্বস্তির কারণ না হয়। পরিশেষে, জিপিএস ট্র্যাকার হলো অতিরিক্ত একটি নিরাপত্তা স্তর, যা জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুর শেষ অবস্থান জানার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিশু বাইরে থাকলে সে ঠিক কোথায় আছে, তা জানা থাকলে অভিভাবকের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডিভাইসটি ছোট, সহজে বহনযোগ্য এবং যতটা সম্ভব চোখের আড়ালে রাখা যায় কি না, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কীভাবে কাজ করে এসব ট্র্যাকার, কী সুবিধা দেয়, বাংলাদেশে কোন ধরনের ট্র্যাকার পাওয়া যায় এবং কেনার আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল করবেন, জেনে নিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো কারণে নির্ধারিত জায়গা থেকে দূরে চলে গেলে জিওফেন্স বা নির্দিষ্ট এলাকার সীমানা অতিক্রমের সতর্কবার্তাও কিছু ট্র্যাকার দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেক ডিভাইস আগের অবস্থানগুলো সংরক্ষণ করে।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
এনআইডি জন্মতারিখ সংশোধনে কঠোর মনিটরিং করবে ইসি রাফিনহার হ্যাটট্রিকে উড়ছে বার্সা, মুগ্ধ সেভিয়া কোচ মিরসরাইয়ে বিধবা ও এতিম পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে বড় নিয়োগ, বেতন ৭২ হাজার টাকা শিশুর নিরাপত্তায় জিপিএস ট্র্যাকার: কেনার আগে যা জানা জরুরি জাতিসংঘে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বার্লিনের মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে শরণার্থী-কন্যা আলিফ আরালপ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস পরিদর্শন করলেন শেখ জোয়ান ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি সুচন্দার ছয় দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে হাঁপ ছাড়লো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শক্তিশালী এল নিনোর অশনি সংকেত: বড় দুর্যোগের মুখে এশিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ: আবেদন করুন অনলাইনে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: এমপি নজরুল ও তাঁর স্ত্রীর সাত গাজী নজরুলের স্ত্রী: যা জানাল জামায়াতে ইসলামী আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে পদকের আশা জাগাল বাংলাদেশ মেসির গোল ও মাইলফলক সত্ত্বেও জয়হীন ইন্টার মিয়ামি ব্র্যাকে প্রশিক্ষক নিয়োগ: ৭ জেলায় আবেদনের সুযোগ দুদক কর্মীদের ঝুঁকি ভাতা বাড়ছে, কার্যকর ২০২৮ সাল থেকে এনআইডি জন্মতারিখ সংশোধনে কঠোর মনিটরিং করবে ইসি রাফিনহার হ্যাটট্রিকে উড়ছে বার্সা, মুগ্ধ সেভিয়া কোচ মিরসরাইয়ে বিধবা ও এতিম পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে বড় নিয়োগ, বেতন ৭২ হাজার টাকা শিশুর নিরাপত্তায় জিপিএস ট্র্যাকার: কেনার আগে যা জানা জরুরি জাতিসংঘে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বার্লিনের মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে শরণার্থী-কন্যা আলিফ আরালপ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস পরিদর্শন করলেন শেখ জোয়ান ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি সুচন্দার ছয় দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে হাঁপ ছাড়লো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শক্তিশালী এল নিনোর অশনি সংকেত: বড় দুর্যোগের মুখে এশিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ: আবেদন করুন অনলাইনে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: এমপি নজরুল ও তাঁর স্ত্রীর সাত গাজী নজরুলের স্ত্রী: যা জানাল জামায়াতে ইসলামী আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে পদকের আশা জাগাল বাংলাদেশ মেসির গোল ও মাইলফলক সত্ত্বেও জয়হীন ইন্টার মিয়ামি ব্র্যাকে প্রশিক্ষক নিয়োগ: ৭ জেলায় আবেদনের সুযোগ দুদক কর্মীদের ঝুঁকি ভাতা বাড়ছে, কার্যকর ২০২৮ সাল থেকে