পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অসুস্থতা এবং কারাগারে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আদিয়া জেলে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী এই তারকার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবার অস্ট্রেলিয়ার সাতজন সাবেক অধিনায়ক দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং-এর কাছে একটি মানবিক আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ। মূলত রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই তারা এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্যঝুঁকি, চিকিৎসার অভাব এবং তার পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এই সাত কিংবদন্তি। চিঠিতে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলা কোনো আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করতে চান না। তবে একজন সহকর্মী ও মানুষ হিসেবে তার প্রতি অমানবিক আচরণের বিষয়টি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকে ব্যথিত করছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং বন্দীর মৌলিক অধিকার রক্ষার একটি প্রয়াস মাত্র।
ইমরান খানের বোন ও সন্তানরা দীর্ঘ সময় ধরেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ও যথাযথ চিকিৎসার অভাব নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড, যেখানে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও যুক্ত আছেন, তাদের মাধ্যমে তাকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে, বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের আদেশ অনুযায়ী কোনো প্রশাসনিক বাধা বা দীর্ঘসূত্রতা ছাড়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ফেব্রুয়ারি ও আগস্ট মাসেও বিশ্বের অনেক প্রথিতযশা সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারের কাছে একই ধরনের আবেদন জানিয়েছিলেন। এছাড়া বর্তমান অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং ওয়েস্ট উইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারাও ইতিপূর্বে ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের দাবি জানিয়েছিলেন।






