কোভিড-১৯ মহামারির সংকটময় মুহূর্তে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল তছরুপের দায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশেষ করে মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে ফুটবলের জন্য দেওয়া সহায়তার অর্থ যেন কোনোভাবেই অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সংস্থাটি। এই অভিযোগে মালদ্বীপ ও মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বড় অংকের জরিমানাসহ দীর্ঘমেয়াদী ও আজীবন নিষেধাজ্ঞার রায় দেওয়া হয়েছে।
মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএএম) সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিলকে ফুটবল সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফার স্বাধীন এথিকস কমিটি। তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানাও করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মহামারির সময়ে ফেডারেশনে আসা অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর এবং তা দিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় কারাগারে ৩২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এছাড়া একই ফেডারেশনের সাবেক আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকে তহবিলের অপব্যবহার ও জালিয়াতি লুকানোর দায়ে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ও ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।
ফুটবল তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ভিনসেন্ট কাসেলকেও আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার দায়ে দেশটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজকে ১৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা ও ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। ফিফার এমন কঠোর বার্তা মূলত বিশ্বজুড়ে ফুটবলের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।






