ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে স্নাতক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সব অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের অবসান ঘটেছে। সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’ সংগীত পরিবেশন করে। ব্যান্ড সদস্য হাসান ইথারের কণ্ঠে গানে গানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মূল ক্যাম্পাস–সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব। কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়েদুল হকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও হাফিজুর রহমান মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান নির্বাচন নিয়ে গত তিন দিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নবীনবরণে কনসার্ট হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে এটি স্থগিতের দাবি জানায়। গত শনিবার সংগঠনটির সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খানের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি অধ্যক্ষের কাছে দেওয়া হয়। একই দাবিতে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করেছিল তারা।
পরিস্থিতি শান্ত করতে শনিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে কলেজ ছাত্রদল ও কওমি ঐক্য পরিষদের নেতাদের আলোচনা হয়। পরে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মূল মাঠের পরিবর্তে অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলেজ প্রশাসন ও কলেজ শাখা ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিকেল সোয়া চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণ, আশপাশের সড়ক ও দক্ষিণ ক্যাম্পাসে তিলধারণের ঠাঁই নেই। এমনকি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভিড় করেন। পাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আসরের নামাজের বিরতি দেওয়া হয় এবং সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।
দীর্ঘ চার বছর পর এমন বড় আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে জেলায় এর আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ওপর বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ আগস্ট জেলা পুলিশের একটি আয়োজনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া ৩০ মে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তিতে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনীও বন্ধ করতে হয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
তবে এবার সকল বাধা ও বিতর্ক পাশ কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলার স্থানীয় শিল্পীরা মঞ্চে ওঠেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরই ঢাকা থেকে আসা ব্যান্ড দল হাইওয়ের হাসান ইথার ও তাঁর দলের সদস্যরা মঞ্চে ওঠেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেটি কাটিয়ে অবশেষে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ–উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়।






