ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হুমকি এবং একজনের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, সব হলের প্রভোস্ট ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির সামনে নিজেদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি কিংবা হয়রানি করবেন না মর্মে তারা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। এছাড়া পরবর্তী সময়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আনুষ্ঠানিক মুচলেকা দেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাহিন অর রশিদ প্লাবন ও তার ভাই প্রত্যয়ের হলের সিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কাছে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এটি আপাতত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে মাদক সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং হুমকির ঘটনাটি ঘটেছিল। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বাড্ডা থানায় ৬৮৯ নম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন দাখিল করেন।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের জানান, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর বারবার হামলা ও হুমকি দিয়ে আসছে। তারা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণেই অভিযোগ দেওয়ার পরও পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং একজন সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক গাফিলতি না থাকলে হয়তো ঘটনাটি আগেই সুরাহা করা সম্ভব হতো।
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বের প্রশংসা করে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি বলেন, তার দূরদর্শী হস্তক্ষেপের কারণেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে মুচলেকা দেওয়ার পরেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা রিকশায় চলাচলের সময় সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে গেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তারা কঠোর জবাব দেবেন। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সাংবাদিকরা বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক সমিতি জানিয়েছে, যারা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের প্রশ্রয় না দিয়ে ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রশাসন ও তদন্ত কমিটির এই উদ্যোগকে ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাংবাদিক সমিতির এই সভাপতি বলেন, “এই ঘটনাটি আমাদের প্রভোস্ট ও ডীন মহোদয়কে দায়িত্ব না দিলে সুরাহা হবার সম্ভাবনা ছিলনা৷ তদন্ত কমিটিতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সমঝোতায় হয়েছে৷”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি”, যোগ করেন তিনি।






