ইয়াশ অভিনীত সিনেমা ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর শিরোনাম সংগীতের মাধ্যমে মূলধারার সংগীতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন গায়িকা ও গীতিকার হানিতা ভামব্রি। বিশাল মিশ্রর সঙ্গে গাওয়া এই গানটির কথা লিখেছেন তিনি নিজেই। স্বাধীন সংগীতের জগতে নিজের যে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন, তা বজায় রেখেই এবার বৃহত্তর শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করেছেন এই শিল্পী।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় হানিতা জানান, ‘টক্সিক’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার গানের প্রস্তাব পাওয়ার পর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, “আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, এটা যেন নষ্ট না করি।” তিনি স্বীকার করেন যে, ভালো সুযোগ এলে অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তার চাপ তৈরি হয়। তবে ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে তিনি পুরো মনোযোগ দিয়েছিলেন কাজের ওপর, যাতে নিজের সেরাটা তুলে ধরা যায়।
হানিতার মতে, ‘টক্সিক’ তার জন্য এমন একটি সুযোগ যেখানে সবকিছুই তার সংগীতশৈলীর সঙ্গে মিলে গেছে। গান লেখা তার সহজাত জায়গা এবং সুরটি তার কণ্ঠের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই ছিল। বিশাল মিশ্রর সঙ্গে কাজ করা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। তিনি বিশালের সংগীতবোধের প্রশংসা করে বলেন, বিশাল তার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। সিনেমার জন্য কাজ করলেও নিজের শিল্পীসত্তা থেকে বিচ্যুত হতে হয়নি তাকে, বরং বড় পরিসরে নিজের গাঢ় ও আবহনির্ভর সংগীতের জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন।
গানটিতে তিনি আকর্ষণ, ভঙ্গুরতা এবং মানসিক দ্বন্দ্বের মিশ্রণ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। হানিতার ভাষ্যমতে, এটি কেবল তীব্র আকর্ষণের গল্প নয়, বরং এমন একজনের প্রতি টান, যাকে নিজের জন্য ক্ষতিকর জেনেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। কণ্ঠ দেওয়ার সময় তিনি অতিরিক্ত কারুকার্যের বদলে ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত অনুভূতি তৈরির চেষ্টা করেছেন। ফ্যালসেটো এবং কিছুটা কর্কশ, বাতাসময় কণ্ঠের আবহ ব্যবহার করে তিনি শ্রোতাকে গানের জগতে টেনে নিতে চেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আবেগকে পুরোপুরি সামনে না এনে কিছুটা আড়ালে রাখলে গানে বাড়তি শক্তি সঞ্চারিত হয়।
নিজের সংগীতযাত্রার কথা বলতে গিয়ে হানিতা জানান, ‘ওহ সাত দিন’, ‘পরছাই’, ‘ওশানস’, ‘ডর নেহি’ এবং প্রথম অ্যালবাম ‘শোহরাত’-এর মাধ্যমে তিনি স্বাধীন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মূলধারার সিনেমায় কাজ করলেও তার সংগীত দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং তার সংগীতের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার মতে, স্বাধীন শিল্পী ও মূলধারার সংগীতশিল্পী—এই দুই পরিচয় একে অপরের বিপরীত নয়। নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেই দুই জগতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘শোহরাত’-কে তিনি তার সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন কাজ হিসেবে দেখেন। সেখানে ‘মোহাব্বত’, ‘জেহের’, ‘খুন’, ‘মচ্ছর’, ‘কড়ভা’ ও ‘ভেড়িয়া’-র মতো গানে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি এখন আরও পরিণত গান লিখছেন। আগে সরাসরি ক্ষত থেকে লিখলেও, এখন সেই ক্ষতকে বোঝার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার গানগুলো আরও স্তরযুক্ত ও সিনেমাটিক হয়ে উঠছে, তবে আবেগের সততা আগের মতোই অটুট রয়েছে।
সহযোগিতামূলক কাজের ক্ষেত্রে হানিতা এমন শিল্পীদের পছন্দ করেন, যারা সংগীত বা পৃথিবীকে দেখার ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন। জায়েদেন, রাঘব, রাঘব মিটল, সেজাল ও অবন্তী নাগরালের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি নতুন অনেক কিছু শিখেছেন। বিশেষ করে জায়েদেনের সঙ্গে ‘কাহুন তো ম্যায় ভি কেয়া’ গানটির অভিজ্ঞতা তার কাছে স্মরণীয়।
মূলধারায় আসার পর প্রত্যাশার চাপ বাড়লেও নিজের নীতিতে অটল হানিতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাণিজ্যিকভাবে কোনো কিছু ‘সঠিক’ মনে হচ্ছে বলেই শুধু আমি তা করতে চাই না।” তিনি মনে করেন, গানের মধ্যে নিজের মন থাকা জরুরি। অতীতে ইউকুলেলে সংগীত থেকে ডার্ক পপের দিকে যাওয়ার সময় অনেক শ্রোতা দূরে সরে গেলেও তিনি নিজের সততাকে বিসর্জন দেননি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হানিতা জানান, তিনি স্বাধীন সংগীত ও সিনেমার কাজ—উভয় পথেই সমানতালে এগিয়ে যেতে চান। তার কাছে গল্প বলা এবং মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি অনেক স্বাধীন সংগীত নিয়ে কাজ করছেন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য গান লেখায় আগ্রহী। তিনি বলেন, “গান লেখার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন; এমন কিছু নেই।” আগামী দিনে সংগীত, দৃশ্যভাবনা ও গল্প বলার ধরনে আরও নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অপেক্ষায় আছেন এই শিল্পী।






