চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব থেকে তিনি নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে এসে তিনি আর নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। শুটিং সেটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই শব্দটির সঙ্গে যে সততা, মূল্যবোধ ও নিরপেক্ষতা থাকার কথা ছিল, তা এখন আর অবশিষ্ট নেই। তার মতে, শব্দটিকে বিকৃত করে অনেকে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটেছে, যার ফলে এখন এটি শুনলে আর শ্রুতিমধুর লাগে না।
গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে নামার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরশ খান বলেন, তিনি মূলত উত্তরা স্কুল বা মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের মতো তরুণ প্রজন্মের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন, যারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনে তিনি আবারও রাজপথে নামতে প্রস্তুত। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশ। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন আর মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, এখানে মানুষ থাকে না, আছে কেবল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এনসিপি বা জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা। মানুষ যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সেই বোধটিই এখন হারিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, কোনো নারীর ওপর এমন সহিংসতা তিনি সমর্থন করেন না। তিনি মনে করেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরশ খান আরও বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে দেশ যে উত্তাল পরিস্থিতিতে ছিল, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তার মতে, নারীদের ওপর রাস্তাঘাটে হামলার ঘটনা নতুন নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের একটি চর্চার বহিঃপ্রকাশ। কোনো শিল্পীর মতামতের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার সঙ্গে কথা না বলা বা তার পথ পরিহার করা যেতে পারে, কিন্তু সহিংসতা কোনো সমাধান নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কারো অন্যায় মনে হলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত, যাতে দোষী ব্যক্তি যথাযথ শাস্তি পায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরশ খান বলেন, “জুলাইযোদ্ধা’ শব্দটা আমার সঙ্গে নিতে চাই না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, “আমি যে বাচ্চাগুলোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম, যারা উত্তরার স্কুল বা মাইলস্টোনে পড়ে, তারা কেউ পলিটিকস করছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আরশ খান বলেন, “আমার মস্তিষ্ক বা আমার স্বল্প শিক্ষা, যেটাতে আমি বড় হয়েছি, সেটা আমাকে বলে যে—গতকাল রাতের না শুধু, রিসেন্ট টাইমে যেখানে যত মব হয়েছে, এটা হওয়াই উচিত না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোশ্যাল মিডিয়ায়ও সক্রিয়া ভূমিকা পালন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওদের জন্য দরকার পড়লে আবার রাস্তায় নামব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার দেশের মানুষগুলো কয়েক বছর ধরেই তো দেখছে, নারীদের রাস্তাঘাটে বেধড়ক পেটাচ্ছি।






