ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুতিদের এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং কিছু স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। সৌদি আরব এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হুতিদের হামলার এক দিন পর বুধবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির গণমাধ্যম জানায়, সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের মারিব, আল-জাওফ, তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশে ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব হামলা চালানো হয়।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। যদিও সেই যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে রূপ নেয়নি, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। তাইজ, আল-বায়দা ও আল-জাওফ প্রদেশে লড়াই তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনীর মূল লক্ষ্য রাজধানী সানা পুনর্দখল করা, যা দীর্ঘ সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হুতিরা দাবি করেছে, তারা সরকারি বাহিনীর বেশ কিছু অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপন্থী বাহিনী আগের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত। তারা দক্ষিণ ইয়েমেনের কিছু এলাকা পুনর্দখলের পর সরকারবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে হুতিদের সামরিক সক্ষমতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি চাপ বাড়লে তারা উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সরে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিতে পারে।
ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জলপথটি জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা ও খামিস মুশাইতের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের এই হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তারা এর উপযুক্ত জবাব দেবে। অন্যদিকে হুতিদের দাবি, সৌদি সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। গত জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই তারা দেশটির জাহাজ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।
এই সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও পড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম দুই ডলারের বেশি বেড়ে ৯৩ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—উভয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একই সময়ে ঝুঁকিতে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি সিরিয়ার মতো দ্রুত পতনের বদলে সুদানের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সানা দখলের লড়াই শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় আটকে আছে সার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইয়েমেন এখন ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধের মাঠ: হুতি দমনে সৌদির ৩২ বিমান হামলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্পেনে দ্বিতীয় ক্লাব কিনতে যাচ্ছেন মেসি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আল-জাওফকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে দেখা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের কিছু এলাকা পুনর্দখল করে।






