রাজধানীর চারপাশের ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বৃত্তাকার নৌপথে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীসহ ঢাকার চারপাশের বিস্তৃত নৌপথকে কাজে লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন বাড়ানো গেলে রাজধানীর সড়কের ওপর চাপ কমবে এবং যানজট নিরসনে তা বড় ভূমিকা রাখবে।
ওয়াটার বাস চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আগের প্রকল্পটির সীমাবদ্ধতা ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবাটি চালুর কাজ করছে। উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক আগে এই নৌপথে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হলেও তা আর্থিকভাবে সফল হয়নি। গত ১০ বছরে এই খাতে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, যার বার্ষিক গড় প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নদী দূষণ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর তীরে ৪২৪টি দূষণস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে নিয়মিতভাবে রাসায়নিক ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে গতকাল একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নদী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে নদীগুলো পরিদর্শন করেছেন। এই মহাকর্মযজ্ঞে ওয়াসা, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ বছরে গড়ে লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।






