বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা তাদের জন্য শোভন নয়। তার মতে, দেশের জনগণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে ভালো বোঝে যে তাদের নাগরিকদের কল্যাণে কী প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। মন্ত্রীর দপ্তরে প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তার কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়, কারণ দেশের মানুষ ও সরকারই তাদের জন্য কোনটি ভালো তা নির্ধারণে সক্ষম।
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ’ বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং ঢাকায় ভারতের প্রতিনিধি—উভয়ই এই সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, মন্ত্রীর সঙ্গে অল্প সময়ের আলাপেও তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা মন্ত্রীর রয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উন্নয়ন যাত্রায় চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশকেই একে অপরের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো উপলব্ধি করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সব পক্ষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি, যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…’।






