ফুটবল বিশ্বের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন না। একটি জার্সি, একটি পতাকা এবং তিন প্রজন্মের আবেগ ধারণ করা মেসি তার এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না এবং এটি এখনও তার আত্মার গভীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে, তবে এটাই সঠিক সময় বলে তিনি মনে করছেন।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা হয়েছে এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে তার দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটে। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট পরেন তিনি। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ পান এই ক্ষুদে জাদুকর। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার স্বপ্নযাত্রা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও শিরোপা জেতা সম্ভব হয়নি। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সেই ফাইনাল ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত মেসির জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
নিজের বিদায়লগ্নে মেসি তার দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি শপথ করে বলতে পারি, আমি সবসময় সবকিছু দিয়েছি। শুধু গত কয়েক বছরে নয়, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি তখনও নয়; তার আগেও। আমি সবসময় এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি এবং নিজের সর্বস্ব দিয়েছি।” তার কাছে আর্জেন্টিনার জার্সি কেবল একটি পোশাক ছিল না, বরং ছিল লড়াইয়ের প্রতীক। এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর তিনি একবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে ফিরে এসে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেন।
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের প্রভাবও তার এই সিদ্ধান্তে পড়েছে। আগস্ট মাসে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি গভীর সংশয়ে ছিলেন। মেসি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে খেলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার মনে গুরুতর দ্বিধা তৈরি হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ালেও ক্লাব ফুটবলে তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ থাকায় ভক্তরা এখনও তাকে ক্লাব ফুটবলে দেখার সুযোগ পাবেন।
মেসির এই বিদায়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিসংখ্যানের চেয়েও তার ফুটবল শৈলী এবং মাঠের প্রদর্শনী ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নীল-সাদা জার্সি গায়ে আর তাকে দেখা না গেলেও, তার বাম পায়ের জাদুর স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটা জার্সি, একটা পতাকা এবং কমপক্ষে ৩ প্রজন্মের আবেগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেসি লিখেন, “এটা এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও আমার আত্মার গভীরে কষ্ট দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেসির বিদায়ের গল্পটা যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার গল্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসময় যে দলটির হয়ে সাফল্যের জন্য তাকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, সেই আর্জেন্টিনাকেই তিনি শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরার মুকুট পরিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে টাইব্রেকারে জয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেসির হাতে উঠেছিল সেই সোনালী ট্রফি, যেটির জন্য পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তাকে শুনতে হয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর ২০২৬ বিশ্বকাপেও থামেনি আর্জেন্টিনার পথচলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল তারা।






