ফুটবল বিশ্বে এক যুগের অবসান ঘটল। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। মায়ামিতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এবং বাংলাদেশে সোমবার রাত ৯টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নিজের দীর্ঘ বার্তায় মেসি লিখেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনেক ভেবেচিন্তেই তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির অবসরের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। গত ২৪ জুন ৩৯তম জন্মদিন পালন করা মেসির এই বিদায় কেবল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে শূন্যতা তৈরি করেছে। শৈশব থেকে যাঁদের বেড়ে ওঠা মেসির বাঁ পায়ের জাদুতে, তাঁদের অনেকের বয়স এখন ২৫ থেকে ৩০ বছরের কোঠায়। এই প্রজন্মের কাছে মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে। তবে সেই অভিষেক ম্যাচটি ছিল বেশ নাটকীয়; বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কনুই মারার দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। ক্যারিয়ারের ২০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে লাল কার্ড দেখার ঘটনা সেটিই ছিল প্রথম। এর অনেক বছর পর ২০১৯ কোপা আমেরিকায় চিলির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো লাল কার্ড দেখেন।
পরিসংখ্যানের পাতায় মেসির অর্জন আকাশচুম্বী। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১২৫টি গোল এবং ২০৭টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সামনে কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মাঠের লড়াইয়ে এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসকে করেছে সমৃদ্ধ, যা ভবিষ্যতে আর দেখা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
২০১৬ সালে একবার অভিমানে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। সেবার টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারের গ্লানি তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তিনি যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা না করলে হয়তো ফুটবল বিশ্ব তাঁর অনেক জাদুকরী মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত হতো। ক্লাব ফুটবলের সব সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে মহাদেশীয় শিরোপা এবং বিশ্বকাপ জয়—সব মিলিয়ে মেসির অর্জনের ঝুলি এখন পূর্ণ।
কোনো আক্ষেপ বা অপূর্ণতা ছাড়াই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালই হয়ে থাকল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক চিহ্ন। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলা শেষে মাঠের ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও, মেসির রেখে যাওয়া স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২৪ জুন ৩৯তম জন্মদিন উদ্যাপন করা এক ফুটবলারের অবসরের ঘোষণায় তাই ফুটবল–বিশ্বে তোলপাড়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২১ বছরের পদচারণ শেষ হওয়ার অন্য একটা অর্থও তো আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুমান করে নিতে সমস্যা কী, সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাতরাশ সেরে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে পোস্ট দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল–বিশ্বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেটি শুরু হয়েছে ছোট্ট একটা ঘোষণা দিয়ে—‘(বিশ্বকাপ) ফাইনাল শেষে এত দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর, অনেক ভেবেচিন্তে, আমি আপনাদের সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও সত্যি সত্যি যখন তা এল, তা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে—এমন মানুষের সংখ্যা অগণ্য এবং তাঁরা শুধু আর্জেন্টিনা নামের দেশটিতেই বাস করেন না।






