সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি জানায়, আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই রুটে তাদের কোনো ফ্লাইট চলবে না। বিমানবন্দরের অচল অবস্থার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে যাত্রীদের অবহিত করা হবে। হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে বর্তমানে রিয়াদ বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে, যার ফলে ঢাকা থেকে রিয়াদের পাশাপাশি দাম্মামগামী আকাশ যোগাযোগও গত শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় গত শনিবার থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত মোট ৫১টি ফ্লাইট হয় বাতিল করা হয়েছে, না হয় স্থগিত রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ছিল সরাসরি সৌদি আরবগামী ফ্লাইট এবং বাকি ৩৯টি ছিল ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি, রিয়াদ এয়ারের তিনটি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি, সালাম এয়ারের তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট। এই ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের কারণে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী সৌদি আরবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকার প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটা পর্যন্ত সৌদি আরবগামী যাত্রীদের বর্তমানে বিমানবন্দরে ভিড় না করার পরামর্শ দিয়েছেন ইউএস-বাংলার এই কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, ফ্লাইটের সর্বশেষ আপডেট, টিকিট পুনর্নির্ধারণ বা যেকোনো তথ্যের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ ট্রাভেল এজেন্সি কিংবা এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এতে সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি প্রবাসী ও অন্যান্য যাত্রীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।




