হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার গভীর রাতে সৌদি আরবের দুটি বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মারিস্কস এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ওমানি করিডোরে সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেপলারের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রতিটি ট্যাঙ্কারে ২০ লাখ ব্যারেল করে সৌদি অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা হয়েছিল। সৌদি আরামকো গত আগস্ট মাস থেকে এই প্রণালির মাধ্যমে পুনরায় তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে।
মারিস্কসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ১৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে সৌদি পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘সিদর’ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর, খাসাবের প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভিএলসিসি ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, একই স্থানে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনাটি একই হামলার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত, আক্রান্ত জাহাজ দুটির সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং অবরোধের কারণে এই অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উভয় পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযানের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো এই প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় প্রণালিটি পুনরায় সচল করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
জুলাই মাসের শেষভাগের পর থেকে এই এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা নতুন করে শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ওমানি করিডোরে এই ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।






