সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক ঘটনাপ্রবাহ
- আরাগচি: শুধু আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
- ইরানের প্রেসিডেন্ট: হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে নতুন পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ নেতার সমর্থন মিলেছে।
- প্রধানমন্ত্রীর সফর: জাতিসংঘে অংশগ্রহণ শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় রহস্যজনকভাবে হংকংয়ে পৌঁছানো মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দুটি অতি সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ চীনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, লকহিড মার্টিনের তৈরি এই যন্ত্রাংশ দুটি হলো যুদ্ধবিমানের ককপিট ক্যানোপি এবং অস্ত্র রাখার বগির দরজা। এগুলোতে রাডার শোষণকারী বিশেষ প্রলেপ রয়েছে, যা বিমানের স্টেলথ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীনদের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি। ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৬। ‘হামজাকে দেখে শেখো,’ ডুলির ড্রেসিংরুম বার্তা। হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৯৬। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনাটি মে মাসের শেষ দিকে ঘটে। মেরামত বা বাতিলের উদ্দেশ্যে যন্ত্রাংশগুলো পাঠানোর সময় যুদ্ধবিমানটি দক্ষিণ কোরিয়ায় যাত্রাবিরতি দেয়। এর পরপরই সেগুলো হংকংয়ে চলে যায়। কেন যুদ্ধবিমানটি দক্ষিণ কোরিয়ায় থেমেছিল, অথবা যন্ত্রাংশগুলো কি ভুলবশত নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে হংকংয়ে পাঠানো হয়েছিল, তা এখনো অস্পষ্ট। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস অন্তত দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না। তবে এখন পর্যন্ত যন্ত্রাংশগুলো ফেরত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটর এলিসা স্লটকিন এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, চীন আমাদের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি নিজেদের জিম্মায় রেখেছে, অথচ আমরা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের নামে তাদের জন্য লালগালিচা বিছিয়ে দিচ্ছি। সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষেত্রে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশটি সবসময় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য হাতানোর চেষ্টা করে। এর আগেও এফ-৩৫ সংক্রান্ত গোপনীয়তা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছিল। সিঙ্গাপুরের কাছে দুই হার, এবার ‘রিভেঞ্জ’ চান শমিত। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এফ-৩৫ নিয়ে চীনের গোয়েন্দা তৎপরতার ইতিহাসও রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, অকার্যকর যন্ত্রাংশগুলোর এই চালান নিয়ে তারা অবগত আছে। এগুলো উদ্ধার, ঘটনার তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চলছে। লকহিড মার্টিনের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, যন্ত্রাংশগুলো অকার্যকর হওয়ায় এগুলো থেকে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে যন্ত্রাংশগুলো কোন পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল, তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেনি।
এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর এফ-৩৫ রক্ষণাবেক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মার্কিন ঠিকাদার লকহিড মার্টিনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষক জে জে গার্টলার সতর্ক করেছেন যে, প্রতিপক্ষকে নিজ সক্ষমতা সম্পর্কে অনুমান করতে দেওয়া এক বিষয়, কিন্তু তাদের হাতে সরাসরি প্রযুক্তিগত প্রমাণ তুলে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত, এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যা দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ২০টি দেশ ব্যবহার করছে। ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক অভিযানেও এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।






