নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিজ দলেরই স্থানীয় শীর্ষ নেতা। মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটের একটি বক্তব্য সংবলিত ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়।
প্রকাশিত ভিডিওতে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে খাদ্যগুদাম ও ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে কোটি টাকা লোপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানোর ঘোষণা দেন রবিউল আলম বুলেট। উত্থাপিত এসব অভিযোগ তিনি প্রমাণ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান সুসংগঠিত থেকে জনগণের আস্থা অর্জনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা তারা অনুসরণ করে চলছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বিবেচনায় রেখে এতদিন তিনি নীরব ছিলেন বলেও দাবি করেন।
এমপি ফজলে হুদা বাবুল প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি পাঠিয়ে যে চাঁদা আদায় করেছেন, তার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বুলেট। কোন ইউনিয়নের কাছে দল টাকা চেয়েছে এবং সংসদ সদস্য কার কাছে টাকা চেয়েছেন, সেসব প্রমাণ জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসন সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমতায় টিকতে পারেননি; ফলে কোনো জনপ্রতিনিধির প্রশাসনিক ক্ষমতা জনগণের শক্তির চেয়ে বড় হতে পারে না।
ভিডিওতে মহাদেবপুরে বিএনপির নামে পৃথক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কার্যালয় খোলার তীব্র সমালোচনা করে আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলার দাবি তোলা হয়। এছাড়া সংসদ সদস্যের এক প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পা ধরে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল বলেও জানান বুলেট। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে টকশোতে দেওয়া এমপির তিন কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের পরেও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমের মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করে বিএনপি নেতা বুলেট দাবি করেন, সেলিম গত পাঁচ বছরে যা করেননি, বর্তমান সংসদ সদস্য গত আট-নয় মাসেই তার চেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন। কেবল একটি খাদ্যগুদাম থেকেই এমপি তিন কোটি টাকার বেশি নিয়েছেন এবং কোনো কাজ না করেই কীভাবে প্রকল্পের বিল তোলা হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাবও যথাসময়ে প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে বুলেট জানান, এ বিষয়ে তিনি সময়মতো বিস্তারিত কথা বলবেন।
অন্যদের তোলা এসব দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবেই। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তাই লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন। আমি রাজনীতিতে নতুন নই, রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।”






