ইয়েমেন পরিস্থিতির সাম্প্রতিক আপডেট
- আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা: বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ।
- বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন মাইক্রোবাসে, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৪ জন।
- চাহিদামতো মিলছে না সার, কুড়িগ্রামে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি।
- সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ফলে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
- বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: ফাইনালের সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। এই দ্রুতগতির আক্রমণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরনগরীসহ বেশ কিছু এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। এই আকস্মিক সংঘাতের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ত্রাণকর্মীদের তথ্যানুযায়ী, অনেক গ্রাম এখন পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং বহু পরিবার সম্মুখসারির যুদ্ধের কাছে আটকা পড়ে খাদ্য ও পানীয় সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির তথ্যও উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, হোদেইদাহ ও তাইজ প্রদেশে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অনেক পরিবার এর আগেও সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, এটি তাদের জন্য দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো বাড়িঘর ছাড়ার ঘটনা। কায়রোতে আইওএমের মুখপাত্র জো লোরি জানান, সংঘাতময় এলাকায় জরুরি আশ্রয়, খাদ্য, নগদ সহায়তা এবং চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লড়াইয়ের কারণে প্রধান সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়ায় ত্রাণ তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই অগ্রযাত্রা ইয়েমেনকে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতে দেশটিতে চলা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দুর্ভিক্ষে ভুগেছেন অসংখ্য মানুষ। এবারের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২০ মাইল প্রশস্ত এই জলপথ এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলোর একটি। হুতিদের এই উপকূলীয় উপস্থিতি এবং প্রণালির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনের এই অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। সংঘাতের আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতি ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। একদিকে ড্রোন হামলা ও সামরিক কৌশল এবং অন্যদিকে ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ইতিহাসের ভয়াবহতম মানবিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা আর কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব এলাকা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাহাড়ি সবুজ ঢাল পেরিয়ে এসব এলাকা শুষ্ক উপকূলীয় সমভূমিতে গিয়ে মিশেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, অনেকে শহর ছেড়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লোরির ভাষ্য, জরুরি আশ্রয়, নগদ সহায়তা, খাবার, নিরাপদ পানি, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী, চিকিৎসা ও সুরক্ষা সেবা এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দেশটির থেমে থেমে চলা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।






