কাঁচা পাট রপ্তানি করে প্রতি টনে যেখানে মাত্র ১ হাজার ২০০ ডলার আয় হয়, সেখানে পাটকে প্রক্রিয়াজাত করে প্যাকেজিং পণ্য বা মিশ্র তন্তুতে রূপান্তর করতে পারলে প্রতি টনে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) আয়োজিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ও নতুন বিক্রয়কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানান, পাটের সাথে তুলা বা অন্য তন্তু মিশিয়ে মিশ্র তন্তু তৈরি করলে এর মূল্য চার থেকে পাঁচ হাজার ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাটসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং জেডিপিসি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে উৎপাদিত পাটের বড় একটি অংশকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুফল বয়ে আনতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার। মন্ত্রী জানান, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ করা হচ্ছে যাতে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সরকার এই মূল্য সংযোজনের দিকে যেতে চায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার কমাতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। রেশম, তাঁত এবং পাটপণ্যকে তৈরি পোশাকের মতো সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব পণ্যের পরিচিতি ও ব্যবহার বাড়াতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।
নতুন চালু হওয়া বিক্রয়কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ স্থায়ী প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে পাটপণ্যের পাশাপাশি রেশম ও তাঁতের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও এ ধরনের বিক্রয়কেন্দ্র বা ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপন করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর প্রচারের মাধ্যমেই এসব পণ্যের সঠিক বাজার তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সে জন্য জেডিপিসি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।
জেডিপিসি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী এই মেলাটি ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে। অন্যদিকে, স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ সপ্তাহের সাত দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা ও দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণই মূলত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জেডিপিসি প্রাঙ্গণ ১৪৫ মনিপুরীপাড়ায় আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ৩ থেকে ৮ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।






