লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে নিজের বাড়ির উঠানে সন্তানসম্ভবা এক গৃহবধূর মরদেহ ফেলে রেখে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন। সোমবার সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির উঠান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আফরোজা বেগমের (১৮) বাড়ি কালীগঞ্জের চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামে। তার বাবার নাম আলফেস আলী। প্রায় এক বছর আগে নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয় এবং বিয়ের পর থেকে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে একটি গাড়িতে করে আফরোজার মরদেহ গাজীপুর থেকে কালীগঞ্জের নিথক গ্রামে নিয়ে আসেন স্বামী দীন ইসলাম। বাড়ির উঠানে মরদেহ রেখে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের একটি নথি পাওয়া গেছে, যেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।
নিহত আফরোজার বাবা আলফেস আলী অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে গাজীপুরের বাসায় নির্যাতন ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা চিকিৎসার জন্য টাকা চেয়েছিল, কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় আমার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে গেছে। আমি কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি এবং এই ঘটনার বিচার চাই।’ নিহতের স্বজনদের দাবি, আফরোজার শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
অভিযুক্ত স্বামী দীন ইসলাম মুঠোফোনে দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আফরোজার শরীরে আঘাতের চিহ্ন কেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফোন বন্ধ করে দেন। ওসি আবু সিদ্দিক জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।






