
সামরিক সক্ষমতার বিচারে বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ তিনটি দেশের একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় ওয়াশিংটনের কৌশল কিছুটা আলাদা; তারা নিজ ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মিত্র দেশগুলোর বিমানঘাঁটিতেও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রাখে। এই বোমারু বিমানগুলো মূলত আকাশ থেকে লক্ষ্যবস্তুতে বিধ্বংসী হামলা চালাতে পারদর্শী। তবে এই তিন পরাশক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি দিক দিয়ে অনন্য। কেমন হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্থলযুদ্ধ। পরমাণু বোমা নিরাপত্তা দেয়, প্রমাণ করলো ইরান যুদ্ধ’।
বিদেশের মাটিতে এই বিমান মোতায়েনের পেছনে মূল কারণ হলো সম্ভাব্য শত্রুপক্ষকে ভীতি প্রদর্শন বা ‘ডিটারেন্স’ বজায় রাখা এবং মিত্রদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। পারমাণবিক অস্ত্রের মতো বোমারু বিমানগুলোও প্রতিপক্ষকে যেকোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা থেকে নিরুৎসাহিত করে। এছাড়া, কোনো অঞ্চলে প্রয়োজনে দ্রুত সামরিক শক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা জানান দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশল অবলম্বন করে। গত ৬ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে—বিদেশি ঘাঁটিতে বোমারু বিমান মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করা এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করা।
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে মার্কিন বোমারু বিমানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় এই ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে গত ৪ অক্টোবর ফেয়ারফোর্ড থেকে প্রায় এক ডজন বি-১বি বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির সামরিক গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। এদিকে, গত ৫ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে এবং হুমকির কারণে এই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর হঠাৎ করেই ইংল্যান্ডের পশ্চিমে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে দিনভর মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে যেতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, দিন শেষ নাগাদ প্রায় এক ডজন বি-১বি বোমারু বিমান যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যায়। এই ঘটনায় হঠাৎ করেই যেন গুরুত্ব হারাল লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি। ১৯৪৪ সালের ১৮ জানুয়ারিতে ওই বিমানঘাঁটির কার্যক্রম চালু হয়।
মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে মূলত তিন ধরনের বোমারু বিমান বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বি-২১ নামে একটি নতুন স্টেলথ বোমারু বিমানের পরীক্ষা চালাচ্ছে, যা ২০২৭ সালে এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী দেড় দশকে ওয়াশিংটন বি-১বি ও বি-২-এর পরিবর্তে নতুন বি-২১ ও আধুনিক বি-৫২ বিমান নিয়ে নতুন বহর গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে তারা পর্যায়ক্রমে বোমারু বিমান মোতায়েন করে থাকে। এর মধ্যে গুয়ামের অ্যান্ডারসেন বিমানঘাঁটি, ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া এবং সম্প্রতি স্পেনের মোরনে, নরওয়ের অরল্যান্ড, জাপানের মিসাওয়া ও অস্ট্রেলিয়ার টিন্ডাল ঘাঁটি অন্যতম। বিশেষ করে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে অস্ট্রেলিয়ার টিন্ডাল ঘাঁটিতে একাধিক বি-৫২ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিদেশের মাটিতে ঠিক কতগুলো বিমান রয়েছে তা সবসময় সুনির্দিষ্ট নয়, কারণ ওয়াশিংটন তাদের প্রয়োজনে দ্রুত এগুলো সরিয়ে নিতে পারে।
দীর্ঘপাল্লার মিশনে অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সরাসরি বোমারু বিমান পাঠানো হয়। সেক্ষেত্রে আকাশপথে জ্বালানি নেওয়ার জন্য বড় আকারের ট্যাংকার উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। যেমন, ইরানে হামলার সময় প্রতিটি স্কোয়াড্রনের সঙ্গে ছয় থেকে নয়টি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ছিল এবং পুরো মিশনে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, সব মিলিয়ে তাদের কাছে ১৩৯টি বোমারু বিমান রয়েছে, যার মধ্যে ৪৪টিই বি-১বি মডেলের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০