
মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের। ক্যাম্পের ভেতরে নিজের জন্মভূমি আরাকানের স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন গানও গাইছেন অনেকে। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছরেও প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর পথ তৈরি না হওয়ায়, এখন শিক্ষিত ও দক্ষ রোহিঙ্গা তরুণদের একটি অংশ সুযোগ পেলেই তৃতীয় কোনো দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজের জন্মভূমি আরাকানের জন্য গাওয়া ‘ও আরাকান হাঁদেদ্দে দিল্লান, হতোদিন তোঁয়ার ন দেখির মুখ-খান’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রোহিঙ্গা সংগীতশিল্পী রুহেল খানের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইউটিউবে এর দর্শক প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছায়। তবে জন্মভূমিতে ফেরার আকুতি জানিয়ে গান গাওয়া সেই শিল্পীই সম্প্রতি কানাডায় পুনর্বাসিত হয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।
কানাডায় যাওয়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন রুহেল খান। ফেসবুকের মন্তব্যের ঘরে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, আরাকানের জন্য কেঁদে অবশেষে কানাডা চলে যাওয়াটা কি মিয়ানমারের জন্য তার প্রকৃত দরদ? কবির আহমদ ও মোহাম্মদ রফিকের মতো অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘কানাডাই এখন তোমার জন্য আরাকান।’
শুধু রুহেল খান নন, ক্যাম্পের শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের একটি বড় অংশ এখন নতুন জীবনের সন্ধানে মরিয়া। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি কক্সবাজারের ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক তরুণ অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। প্রায় নয় বছর ক্যাম্পে থাকার পর তিনি এখন সেখানে কাজের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তরুণ জানান, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন পেলেও তার হৃদয়ে এখনো আরাকানই রয়েছে এবং সুযোগ পেলে তিনি জন্মভূমিতে ফিরতে চান।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, তৃতীয় দেশে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন একটি সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাত হাজারের কিছু বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে পুনর্বাসিত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও কিছু রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পের শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ মনে করছেন যে একসময় তারাও উন্নত কোনো দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন। তবে এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা রিপ্রেজেন্টেটিভের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ উল্লাহর মতে, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। রোহিঙ্গাদের মূল সমাধান তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।
শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিনের মতে, প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কিছু রোহিঙ্গার জন্য একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেও বাস্তবে প্রত্যাবাসনের কোনো সুস্পষ্ট পথ এখনো তৈরি হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ ৯ বছরেও প্রত্যাবাসনের পথ খুলে না যাওয়ায় সুযোগ পেলে শিক্ষিত ও দক্ষ রোহিঙ্গা তরুণদের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারেকুর রহমান, কক্সবাজার ||। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা থেকে ছবি ভিডিও প্রকাশ করলে সেখানে নেটিজেনরা কঠোর সমালোচনা করেন তার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০