বুধবার (১৯ আগস্ট) দৈনিক যুগান্তরে ‘ভয়ংকর গোপন কারাগার’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের রহস্যময় অন্দরমহলের অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসার পর নড়েচড়ে বসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে আহ্বায়ক এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শাখার সহকারী পরিচালককে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা), ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালটেন্ট এবং ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে মূলত সংশ্লিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা উদঘাটন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের ওপর।
এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটির কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে চলা এই গোপন কারাগারের বিষয়টি সামনে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।





