প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স পাঠানো ও রপ্তানি বাণিজ্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সিআইপি মর্যাদার পরিধি বাড়াচ্ছে সরকার। ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’-এর আওতায় এবার তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও আবেদনের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগের ৯০ জনের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে এবার সিআইপির সংখ্যা ১৩৫ জনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের সিআইপি নির্বাচনের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। আগ্রহী প্রবাসীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
সিআইপি নির্বাচনের ক্যাটাগরি ও যোগ্যতা
- শিল্পে বিনিয়োগ: প্রথম ক্যাটাগরিতে দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগ করতে হবে।
- রেমিট্যান্স প্রেরণ: দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এই ক্যাটাগরিতে আবেদনের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে হবে।
- পণ্য রপ্তানি: তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে সিআইপি করা হবে। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) দাখিল করতে হবে।
প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক বছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রবাসীদের সিআইপি মর্যাদা দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের এই ক্যাটাগরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। আবেদন অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো আবেদন বাতিল বা স্থগিত করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান ও অর্জন
প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩২৬ জন বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর ভিত্তিতে গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৪৯ জন বাংলাদেশি সিআইপি হয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটি থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী এই মর্যাদা অর্জন করেছেন। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের শর্তে আবেদনের সুযোগ থাকায় প্রতি বছর সিআইপি হওয়ার আগ্রহ ও আবেদনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এসব খাতে আরও বেশি প্রবাসীকে সম্পৃক্ত করাই সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। চাকরির আরও তথ্য: এছাড়া দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বিনিয়োগের জন্য ৫০ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে যুক্ত ১০ জনকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে।






