নোয়াখালীর আলোচিত তিন ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় ৬ জনের কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ:
Print news

নোয়াখালীর আলোচিত ট্রিপল মার্ডার বা তিন ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত। রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এই রায় প্রদান করেন। রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২১ মে নোয়াখালী সরকারি কলেজের হোস্টেলের পুকুরে গোসলের সময় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যায় শালিস বৈঠকে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব, ওয়াসিম ও ইয়াছিন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় আসামি সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে রাজিব, ওয়াসিম ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াসিম ও ইয়াছিন মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

রায়ের বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি মো. বরকত উল্যাহ রাশেদ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পীর উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন। মামলার শুরু থেকেই বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

ঢাকা রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬ || ভাদ্র ১ ১৪৩৩ || ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস-সংলগ্ন হোস্টেলের পুকুরে গোসলের সময় স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক করা হয়।

শেয়ার করুন