নির্বাচন কমিশনের ভেতরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহেই দুই সতীর্থ নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শনিবারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কমিশনের ফুলবেঞ্চ অংশ নেয় এবং বৈঠকের ছবিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, গত ১০ মাস ধরে জ্ঞানেশ কুমার তার দুই সতীর্থের মতামতকে উপেক্ষা করে আসছেন। কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে দুই কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন, যা প্রধান নির্বাচন কমিশনার অগ্রাহ্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী নেতারা কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি বা বক্তব্য থাকলে তা দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভোটারদের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যারা এসআইআর নোটিস পেয়েছেন, কমিশনের কর্মীরা সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলো ইসিআইনেট অ্যাপে আপলোড করবেন। ইআরও (ERO) সংশ্লিষ্ট ভোটারের যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া শুনানির জন্য কাউকে ইআরও বা এইআরও অফিসে সশরীরে হাজির হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুনানি মূলত অনলাইনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে এবং নোটিসপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যও শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।





