দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তাদের উপর নির্ভরশীলতার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, দেশের ভেতরেই পর্যাপ্ত দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি রয়েছে, যাদের সুযোগ দিলে এ শিল্পের শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
রবিবার রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হলেও দেশের অনেক কারখানা ও বায়িং হাউজে এখনো বিদেশিদের ওপর নির্ভর করা হয়। অথচ স্থানীয়দের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পুরো শিল্প পরিচালনা করা সম্ভব। শুধু দেশের ভেতর স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নয়, বরং বিশ্বমানের পেশাজীবী তৈরি করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে বিদেশি কোম্পানিগুলোও আমাদের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহী হয়।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি জানান, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পোশাক শিল্পে অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই খাতটি জাতীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানিসহ নানামুখী নীতি প্রণয়ন করে এ শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিল্পটিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সাত মাসে বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালু করা এবং উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পোশাক শিল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো নারী অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করছেন। গ্রামীণ নারীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি পোশাক আজ বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছে।
গবেষণার ওপর জোর দিয়ে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় নিজস্ব গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নকশায় নতুনত্ব আনা সম্ভব হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে কর্মসংস্থান কমানো যাবে না, বরং মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পোশাক শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষায়িত কোর্স, ইন্টার্নশিপ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালুর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্টার্টআপ প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় তহবিল বা মূলধন প্রদানের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শিল্পের টেকসই সাফল্যের জন্য তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইকোসিস্টেম’ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনকে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে তরুণদের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে মাহদী আমিন বলেন, তারাই বাংলাদেশের ভবিষ্যতের মূল শক্তি। সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এনবিআর সদস্য ফারজানা আফরোজসহ সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেলা উদ্বোধন করেছিলেন, যেখানে ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারের একটি হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে যেন দেশের ভেতরে সম্মানজনক জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের চাহিদাসম্পন্ন করে তুলতে পারে, সে ধরনের কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, “সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও যোগাযোগের সক্ষমতাও তৈরি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কারের কাজ চলছে।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি এবং নগদ প্রণোদনার মতো নীতি চালু হয়, যা পরবর্তীতে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা নিয়মিত সংলাপ ও মতবিনিময় করছেন বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রযুক্তিনির্ভর যুগে বাংলাদেশকে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে, তবে এর উদ্দেশ্য হতে হবে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এমনটাই বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।






