গত ২১ বছরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এসে দুই দেশের বাণিজ্যের এই অংক দাঁড়িয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে। আঙ্কারায় কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত এই তথ্য জানান। তিনি ঘোষণা করেন যে, দুই দেশ এখন তাদের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নতুন নয়; এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তুরস্ক-কাতারের সুপ্রিম স্ট্র্যাটেজিক কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (টিইপিএ) কার্যকর হয়েছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় নির্মাণকাজের সুবাদে দুই দেশের বাণিজ্য এক পর্যায়ে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। বর্তমানে কাতারে প্রায় ১,১১৬টি তুর্কি কোম্পানি নির্মাণ, সেবা ও উৎপাদন খাতে সক্রিয় রয়েছে। তুর্কি ঠিকাদাররা কাতারের ২০৬টি প্রকল্পে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের কাজ সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, তুরস্কে কাতারের প্রায় ২৫০টি কোম্পানি অর্থ, ব্যাংকিং, জ্বালানি, লজিস্টিকস, গণমাধ্যম ও কৃষি খাতে ৭.৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বোলাত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রপথের সীমাবদ্ধতা এড়াতে নতুন ট্রানজিট করিডোর তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে তুরস্কের পণ্যবাহী যান সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরব হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে। ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্য দিয়েও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব বিকল্প ট্রানজিট ও বাণিজ্য করিডোরকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে তুরস্ক ও কাতার যৌথভাবে কাজ করবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নির্মাণকাজের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য একসময় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প বাণিজ্যপথের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন বোলাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুরস্ক বর্তমানে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ভোক্তা পণ্যের চাহিদা পূরণে কাজ করছে।




