আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কোনো ধরনের ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার অপচেষ্টা চালানো হলে সরকারকে মাগুরা নির্বাচনের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে দুর্নীতি নির্মূল, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং গুম-খুন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা প্রতিরোধে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি ও দাবি তুলে ধরা হয়। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এটি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। তবে জোটের কাছে বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন খবর আসছে যে, আবারও ১২ ফেব্রুয়ারির মতো নির্বাচন জালিয়াতির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ধরনের কোনো অশুভ উদ্যোগ নিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। তাই সরকার যেন মাগুরা থেকে শিক্ষা নেয় এবং কোনো ধরনের অসৎ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসে। তিনি আরও বলেন, জনগণ আজ সচেতন এবং তারা যেকোনো মূল্যে নির্বাচনী জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত। জোটের ঐক্য অটুট থাকবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সেখানে আজকে ১১-দলীয় যে প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, এটা আমরা জানি। সরকারের উদ্দেশে ১১দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক বলেন, সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা জোর করে তো ক্ষমতায় রাখতে পারব না। সাত দলের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা ও ১১দলীয় জোটের ঐক্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গতকালের মিটিংয়ের ব্যাপারে এতটুকু আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল সেখানে জনসভা আছে, সেখানে আমরা জনসমুদ্র লক্ষ করব। এখান থেকে সরকার পতন আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। উনাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ছেড়ে দেয়ার অজুহাত তৈরি করে একটু পালিয়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতি আপনারাই তৈরি করে দেন, জনগণের কিছু বলার নাই। বক্তব্য দেয়া ছাড়াই এটা প্রমাণ করে, যারা ওখানে সাত দল বা যে দলেই হোক, জোট হোক, উনারা আজকে এখানে ১১ দলে আছেন। সুতরাং ওখানে ১১ দলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে, ভেঙে গেছে– নানা অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। সেই পথেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামব। এর মধ্য দিয়ে আমরা বার্তা দিতে চাই, সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারেন, দেয়ালের লিখন পড়েন, শিক্ষা নেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করবে জোটটি। ওইদিন সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে নেতাকর্মীদের জমায়েত শুরু হবে এবং সকাল ৮টায় সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হবে। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এই লংমার্চ পরিচালিত হবে। যাত্রাপথে ছয়টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর ও ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড় এবং চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড। সবশেষে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে সমাপনী সভা হবে। হামিদুর রহমান আযাদ জানান, লংমার্চটি হবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব। তিনি প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন প্রতিটি স্থানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগেভাগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ধরে নেয়া হবে যে, সরকার ও ফ্যাসিবাদী শক্তিই এসব অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।






