ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প: ৪৭ জনের মৃত্যু ও ২৩৫টি আফটারশক

প্রকাশ:
Print news

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। মাটির মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় এর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারীরা এখনো কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী নাগেকেও এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটিসহ অন্তত ২৩৫টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শুরুতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মার্কিন ও ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের কাছে, এন্ডে শহর থেকে প্রায় ৪২ মাইল উত্তর-পশ্চিমে।

মাউমেরে শহরের উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানিয়েছেন, বন্দর নগরীটির আশেপাশে উদ্ধারকাজ চালিয়ে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছয়জন গুরুতর আহত এবং দুজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে আটজন ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মাউমেরে হলো ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রিজেন্সির প্রধান শহর।

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যে দেখা গেছে, অন্তত ৩৪৬টি বাড়ি, ৮৭টি স্কুল এবং এক ডজনেরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবনের ভেতরে এখনো বাসিন্দারা আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৬০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি এত বড় ভূমিকম্প আগে কখনো অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল যেন আমরা ট্রাম্পোলিনের ওপর আছি, এটা সত্যিই ভীতিকর ছিল।”

ঢাকা রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬ || ভাদ্র ১ ১৪৩৩ || ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপ এলাকায় এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।

মাটির মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে।

এই মারাত্মক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধারকারীরা এখনো ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেকেওতে পৌঁছাতে পারেননি।

ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি যা সুনামির ইঙ্গিত দিতে পারে।

নিহতদের মধ্যে আটজন ভূমিধসে মারা গেছেন।

শেয়ার করুন