বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন চললেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে চীনপ্রধান শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আনুষ্ঠানিকতার ভিড়ে বিশ্ববাসীর আলাদা নজর কেড়েছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান। তার শিল্পীজীবন থেকে শুরু করে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের গল্পটি বেশ বৈচিত্র্যময়। এবার ১০ এয়ারবাস কিনতে আলোচনা করছে বিমান। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দুঃখিত ও বিব্রত: জাহেদ উর রহমান। এক্সপ্লেইনার / যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ভাটার টান। ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৪২। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে তার সাক্ষাৎ, ইংরেজিতে কথোপকথন, তরুণদের গান শোনা ও পোশাকের ধরন—সব মিলিয়ে আবারও সামনে এসেছে চীনের এই সাবেক সামরিক সংগীতশিল্পীর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় জীবন। অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পেং লিউয়ানের শিল্পীজীবন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পরিচয় ও বিয়ে, বৈশ্বিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা ও ফ্যাশন আইকন হিসেবে উত্থানের নানা দিক। শানডংয়ের কিশোরী থেকে চীনের জাতীয় তারকা।
পেং লিউয়ানের ক্যারিয়ার ও জনপ্রিয়তার কিছু তথ্য
- প্রভাবশালী তালিকা: ২০১৩ সালে টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি।
- জনপ্রিয় সম্বোধন: চীনে তিনি ‘মা পেং’ নামে পরিচিত, আর শি জিনপিং ‘শি দাদা’ হিসেবে অভিহিত হন।
- সফট পাওয়ার: চীনের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও নরম শক্তির অন্যতম প্রধান মুখ তিনি।
- বিশেষজ্ঞের মত: অনেকের কাছে পেং জাতীয় পরিবারের একজন আদর্শ মায়ের মতো।
১৯৬২ সালে শানডং প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা পেংয়ের শৈশব কেটেছে শিল্প-সংস্কৃতির আবহে। তার মা ছিলেন একজন অপেরা শিল্পী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে শানডং ইউনিভার্সিটি অব আর্টসে ভর্তি হয়ে তিনি চীনা লোকগানে তালিম নেন। ১৯৮০ সালে পিপলস লিবারেশন আর্মিতে (পিএলএ) যোগ দেওয়ার পর তার সংগীত প্রতিভা জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮০-এর দশকে তিনি এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন যে, তখন শি জিনপিংকে ‘পেং লিউয়ানের স্বামী’ হিসেবে পরিচিতি পেতে হতো। পরিবারেও ছিল শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ।
১৯৮৬ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সে সময় শি জিনপিং ছিলেন ফুজিয়ান প্রদেশের শিয়ামেন শহরের উপমেয়র। পরের বছর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যা শি মিংজে ২০১০ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, নিজের পরিচয় গোপন রাখতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন।
অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডিদের তুলনায় পেং লিউয়ানের ভূমিকা অনেক বেশি সক্রিয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যক্ষ্মা ও এইডস বিষয়ক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। এছাড়া নারী ও মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে বিশেষ দূত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জনস্বাস্থ্য ও ধূমপানবিরোধী প্রচারেও তার সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। পোশাক ও ব্যক্তিগত স্টাইলের জন্য তিনি সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন, যা প্রায়ই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জায়গা করে নেয়।
ওয়াশিংটন সফরে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রায় এক দশক পর তাদের পুনরায় দেখা হলো। এর আগে ২০১৭ সালে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরে তাদের শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চীনা কমিউনিস্ট শাসনে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় তার কার্যক্রম ও পোশাক নিয়ে আলোচনার পরিসর অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়।
পেংয়ের পারিবারিক ইতিহাস বেশ জটিল। এক সময় তার বাবাকে ‘কাউন্টার-রেভ্যুলেশনারি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা সেই সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এছাড়া চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্মৃতি হিসেবে মাও সে তুংয়ের স্ত্রীর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এবং পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার মতো ঘটনা দেশটির ইতিহাসে সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে রয়েছে। এই প্রতিকূলতা পেরিয়ে পিএলএর একজন মেজর জেনারেল হিসেবে পেং লিউয়ানের উত্থান ও বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থান দেশটির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।






