
বিশ্ব রাজনীতির কঠিন সমীকরণ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানের ব্যক্তিগত জীবন ও নান্দনিক ভাবমূর্তি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি চীনের ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় শক্তির এক অনন্য মুখ। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন শুরুর আগে থেকেই তিনি একজন জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ধারণক্ষমতার ৪ গুণ রোগীর চাপে খুলনা মেডিকেল। ইউরোপের বিপজ্জনক পথ / দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব পরিবার, ঝুলে আছে ৫ হাজারের বেশি মামলা। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের ৩ ধাপের পরিকল্পনা। মেঘনায় ট্রলারডুবি: ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ বাবা। বাণিজ্যযুদ্ধ, প্রযুক্তির লড়াই ও তাইওয়ানসহ নানা ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যেই অলিখিত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যদিও এই সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিলেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, তবে কূটনীতির আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আলাদা করে নজর কেড়েছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান।
১৯৬২ সালে শানডং প্রদেশে জন্ম নেওয়া পেং লিউয়ানের শৈশব কেটেছে শিল্প-সংস্কৃতির আবহে। তার মা ছিলেন একজন অপেরা শিল্পী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে শানডং ইউনিভার্সিটি অব আর্টসে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার সংগীত ক্যারিয়ার দ্রুত বিকশিত হয়। ১৯৮০ সালে তিনি পিপলস লিবারেশন আর্মিতে (পিএলএ) যোগ দেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
১৯৮০-এর দশকে চীনের সাধারণ মানুষের কাছে পেং ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। সেই সময় পরিচিতদের মধ্যে একটি কৌতুক প্রচলিত ছিল, ‘শি জিনপিং কে? তিনি তো পেং লিউয়ানের স্বামী।’ ১৯৮৬ সালে বন্ধুর মাধ্যমে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, তখন শি ছিলেন শিয়ামেন শহরের উপমেয়র। ১৯৮৭ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এবিসি নিউজের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দেখায় পেংয়ের সামরিক পোশাক পরিহিত সাদাসিধে অবয়ব ও তার খ্যাতি শি জিনপিংকে আকৃষ্ট করেছিল।
কমিউনিস্ট শাসিত চীনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের সাধারণত খুব একটা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না, তবে পেং লিউয়ান এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। জনস্বাস্থ্য নিয়ে তিনি কাজ করেছেন দীর্ঘসময়। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে যক্ষ্মা ও এইচআইভি বিষয়ে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর বাইরেও নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষার প্রসারে ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘স্পেশাল এনভয়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ধূমপানবিরোধী প্রচারণাতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তার আন্তর্জাতিক পরিচিতির অন্যতম বড় অনুষঙ্গ হলো ফ্যাশন সেন্স। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের সময় তার পরিহিত কোট ও স্কার্ফ চীনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তাওবাওয়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ফার্স্ট লেডি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় মেলানিয়া ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে কূটনৈতিক সংস্কৃতি বিনিময়ে অংশ নিয়েছেন। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা খোলামেলা আলোচনার সুযোগ নেই।
পেং লিউয়ানের পারিবারিক ইতিহাসও বেশ বৈচিত্র্যময়। তার বাবা একসময় ‘কাউন্টার-রেভ্যুলেশনারি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছিলেন, যা সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এমনকি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় মাও জে দংয়ের স্ত্রী জিয়াং কিংয়ের মৃত্যুদণ্ড ও পরবর্তীতে তা স্থগিতের ঘটনা চীনা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের ইতিহাসের একটি সংবেদনশীল অংশ। তবে এসব বাধা জয় করে পেং পিএলএর একজন মেজর জেনারেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সব মিলিয়ে তার জীবন কেবল একজন ফার্স্ট লেডি নয়, বরং সংগীতশিল্পী ও সামরিক কর্মকর্তা হিসেবেও এক অনন্য সংমিশ্রণ। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে তার সাক্ষাৎ, ইংরেজিতে কথোপকথন, তরুণদের গান শোনা ও পোশাকের ধরন—সব মিলিয়ে আবারও সামনে এসেছে চীনের এই সাবেক সামরিক সংগীতশিল্পীর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় জীবন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০