বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরাঁ ২৬ বছর বয়সী সাবেক গাড়িবিক্রেতা ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভকে আইনগতভাবে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স লরাঁ এবং বেলজিয়ান সংগীতশিল্পী ওয়েন্ডি ভান ওয়ান্টেনের সম্পর্কের ফসল হিসেবে জন্ম নেন ক্লেমঁ। যদিও ছয় মাস আগে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছিল, তবে বিষয়টি সম্প্রতি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে এসেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুত্রের মর্যাদা পেলেও ক্লেমঁ রাজপরিবার থেকে কোনো ধরনের ভাতা পাবেন না। এছাড়া তার সৎবোন প্রিন্সেস লুইস এবং সৎভাই প্রিন্স এমেরিক ও প্রিন্স নিকোলাসের মতো তিনি রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন না। রাজপরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমেও তার অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
পিতৃত্বের স্বীকৃতি ও ডিএনএ পরীক্ষা
- ডিএনএ মিল: পরীক্ষাগারের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স লরাঁ ও ক্লেমঁর ডিএনএতে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে।
- প্রথম সাক্ষাৎ: ২০১৩ সালে একটি শপিং সেন্টারে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে ক্লেমঁর দেখা হয়, যদিও তখন তিনি জানতেন না যে ওই ব্যক্তি তার বাবা।
- পরিচয়
- যোগাযোগ: ঘটনার চার বছর পর ক্লেমঁ সাহস করে বাবাকে ফোন করেন এবং পরবর্তীতে সরাসরি দেখা করেন।
- পরীক্ষা প্রক্রিয়া: প্রিন্স লরাঁ নিজেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং ক্লেমঁর স্বস্তির জন্য তিনি নিজে সবার আগে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলেন।
ক্লেমঁ বর্তমানে বেলজিয়ামের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। গত সেপ্টেম্বরে ফ্লেমিশ ভাষায় নির্মিত একটি টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্রে তিনি তার জীবনের এই অধ্যায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার মা আইরিস ভানদেনকার্কহোভ (যিনি সংগীতশিল্পী ওয়েন্ডি ভান ওয়ান্টেন নামে পরিচিত) এবং প্রিন্স লরাঁর সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে প্রিন্স লরাঁ প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করেন।
নিজের নামের পাশে বাবার পারিবারিক নাম ‘সাক্সে-কোবুর্গ’ ব্যবহার করবেন কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নন ক্লেমঁ। তিনি বেলজিয়ান দৈনিক হেট নিউসবলাদকে বলেন, তিনি ভানদেনকার্কহোভ নামটি নিয়েই গর্বিত এবং এই নাম ত্যাগ করা মায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হবে বলে মনে করেন।
রাজপরিবারের প্রেক্ষাপট
বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্বের এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগে প্রিন্স লরাঁর বাবা রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ডিএনএ পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে তার একটি কন্যাসন্তান জন্মেছিল। সেই শিল্পী দেলফিন বোল দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে রাজকন্যার উপাধি পান এবং বর্তমানে দেলফিন দ্য সাক্সে-কোবুর্গ নামে পরিচিত। পিতৃত্বের এই কেলেঙ্কারির জেরে ২০১৩ সালে দ্বিতীয় অ্যালবার্ট সিংহাসন ত্যাগ করেন। একই বছর বেলজিয়ামের আইনে পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে কেবল রাজা ফিলিপ, রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট, প্রিন্স লরাঁ এবং প্রিন্সেস আস্ট্রিড সরকারি ভাতা পাওয়ার যোগ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনলাইনে ঋণ প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল ফাঁদে অনেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিহত শিক্ষকসহ ৪ জনের মুখই ছিল ঝলসানো, নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেভাবে ‘রাজপুত্র’ হলেন বেলজিয়ামের গাড়িবিক্রেতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিনাবিচারে আটক না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার বয়স ১৬ বছর হওয়ার পরই মা তাকে বাবার পরিচয় জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবার পরিচয় জানার পর বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ কয়েক বছর সময় পেয়েছেন ভানদেনকার্কহোভ।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘আমি যদি এই পারিবারিক নামটি ত্যাগ করি, তাহলে আমার জন্য মা যা কিছু করেছেন, তার সবকিছুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে’, যোগ করেন তিনি।






