কাতারের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানান, কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি কঠোর শর্ত দিয়েছে তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বিদেশে হিমায়িত থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
তেহরানের সাফ বার্তা হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত এই শর্তগুলো পূরণ করা না হবে, ততক্ষণ ইরান কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচলও উন্মুক্ত করা হবে না।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে আসেনি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো পূর্বশর্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, বরং আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। জবাবে ইরানও জানিয়েছে, সংঘাত বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়লে তারা পাল্টা হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। বর্তমানে লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে এই সংঘাত সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।






