নেতানিয়াহুর সমর্থন কমে দুর্বল অবস্থান, সরকার গঠনের পথে আইসেনকট

প্রকাশ:
Print news

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বর্তমান সময়টা মোটেও স্বস্তিদায়ক যাচ্ছে না। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি, অন্যদিকে দেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের বিমুখ হওয়া—সব মিলিয়ে বেশ চাপে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন জানাতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপে ক্লান্ত ক্রেতা, ৫০ শতাংশ ছাড়েও জমছে না ব্র্যান্ডের পোশাকের বাজার। প্রথমে ঘোষণা এলো, দীর্ঘদিনের মিত্র ও ঘনিষ্ঠ ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশকে আর বার্ষিক নিরাপত্তা সহায়তা বাবদ অর্থ দেবেন না। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম মূলত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত বা ইউরোপের সঙ্গে শিকড়ের সম্পর্ক থাকা আশকেনাজি অতি-রক্ষণশীল ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে, একই সম্প্রদায়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত সেফারদি ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করে শাস পার্টি।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করছেন। ২৭ অক্টোবরের ওই নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকট, কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। ১২০ সদস্যের নেসেটে বা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। রিপাবলিকানদের শোচনীয় পরাজয়ের খবর পুরনো হওয়ার আগেই নেতানিয়াহু নিজের দেশে পেলেন আরেক বড় দুঃসংবাদ।

নেতানিয়াহুর পুরোনো মিত্র ইউটিজে এবার প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছে, তারা সরকার গঠনের জন্য কোনো পক্ষকেই সমর্থন দেবে না। এই দলটির হাতে ৭টি আসন রয়েছে। তাদের সমর্থন না পাওয়ায় নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা এখন ৪৬-এ নেমে এসেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হারজগের সঙ্গে বৈঠকে তারা কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউটিজের ৭ আসন ছুটে যাওয়ায় দলটির হাতে এখন মাত্র ৪৬ আসন।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি আইসেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। সাধারণত যেসব আইনপ্রণেতা সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের সুপারিশ পান, প্রেসিডেন্ট তাদেরই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। আইসেনকট বর্তমানে বিভিন্ন মধ্যপন্থি ও মধ্য-ডানপন্থি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

তবে সরকার গঠনের সমীকরণটি বেশ জটিল। আইসেনকটের জোট বর্তমানে ৪৮টি আসন নিয়ে এগিয়ে আছে। নির্বাচনে আরবের দলগুলোর শক্তির উত্থান ঘটেছে এবং তারা মোট ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আরব দল রা’ম আইসেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে জয়েন্ট লিস্টের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দলটি আইসেনকটের পক্ষেও অবস্থান নেয়নি। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে এই তথ্য জানা গেছে। তা সত্ত্বেও, সার্বিকভাবে আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’ম ‘কিং মেকারে’ পরিণত হয়েছে।

আইসেনকটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে গেলে বিরোধী জোটের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরি থেকে হারেদি ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে। গাজা, লেবানন ও ইরানি যুদ্ধের প্রভাবে রিজার্ভ সেনাদের বারবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা নিয়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রেসিডেন্ট হারজগ বৃহস্পতিবার প্রধান দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করবেন। এরপর তিনি একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে। এদিকে, নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের ৫৩টি আসনের বিপরীতে আইসেনকটের জোটের ৪৮টি আসন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই আইনপ্রণেতা ব্যর্থ হলে হারজগ অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন।

সামগ্রিকভাবে, এবারের রাজনৈতিক খেলায় আরব দলগুলো ‘কিং মেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে পারবে না। যদিও ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অনেক দল আরবদের রাষ্ট্রবিরোধী মনে করে, তবুও বর্তমান বাস্তবতায় সমীকরণ বদলেছে। তারা ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী রাষ্ট্রীয় সুবিধাবঞ্চিত আরবদের বের করে দেওয়ার দাবি ক্রমাগত করে আসছেন। জায়নবাদী বা ইসরায়েলপন্থি ইহুদিরা দলমত নির্বিশেষে আরবদের ‘একমাত্র শত্রু’ হিসেবে দেখেন।

ইসরায়েলের বাইরের নানা সমস্যার মধ্যেও দেশটি অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত। এর বাইরেও বিশ্বজুড়ে চলমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ৯ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার তিন-চতুর্থাংশই বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের নাগরিক। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রতি মাসে গড়ে ১৫০ জনের মৃত্যু এবং মিরপুরে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে। খেলাধুলায়ও পরিবর্তন আসছে, মেসিবিহীন আর্জেন্টিনায় এখন ১০ নম্বর জার্সিও তুলে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিরপুরে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকেরা, দাবি—‘হয়রানি যেন না করা হয়’। হাসানের বোলিং তোপে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। ভাঙা বাঁশের সাঁকোয় আটকা ৮ গ্রামের মানুষ। চোয়াল ভাঙার পর মাস্ক পরে অনুশীলনে ফিরলেন এমিলিয়ানো।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
৯ নভেম্বর বসছে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা নেতানিয়াহুর সমর্থন কমে দুর্বল অবস্থান, সরকার গঠনের পথে আইসেনকট কাতারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব নিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ: জানাল জাতিসংঘ আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় লরিচালক গ্রেপ্তার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের শ্বাসরুদ্ধকর জয় হাসানের হ্যাটট্রিক হাতছানি: রিভিউয়ে মলিন হলো আনন্দের মুহূর্ত ইয়েমেনে হুথিদের ৪৪০ যোদ্ধা নিস্ক্রিয় করার দাবি সরকারি বাহিনীর অন্যের সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার আগে যেসব সতর্কতা জরুরি টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলিতে সেনা সদস্যের প্রয়াণ নিউইয়র্ক সেনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা আবের কাওয়াস কাতার উপকূলে ট্যাংকারে হামলা ও হরমুজে অগ্নিকাণ্ড মূল্যস্ফীতির চাপে স্থবির পোশাকের বাজার, ৫০ শতাংশ ছাড়েও নেই ক্রেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাডমিন্টন কোর্ট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক তপু বর্মণ ধান চাষ ছেড়ে ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কর্ণফুলীর কৃষকরা সিংগাইরে ট্রিপল ট্র্যাজেডি: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের সেরা ইনিংস বেছে নিলেন কোহলি এআই উদ্ভাবনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: কুয়েতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্ধুকে নৃশংসভাবে মৃত্যুর ঘটনা ৯ নভেম্বর বসছে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা নেতানিয়াহুর সমর্থন কমে দুর্বল অবস্থান, সরকার গঠনের পথে আইসেনকট কাতারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব নিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ: জানাল জাতিসংঘ আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় লরিচালক গ্রেপ্তার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের শ্বাসরুদ্ধকর জয় হাসানের হ্যাটট্রিক হাতছানি: রিভিউয়ে মলিন হলো আনন্দের মুহূর্ত ইয়েমেনে হুথিদের ৪৪০ যোদ্ধা নিস্ক্রিয় করার দাবি সরকারি বাহিনীর অন্যের সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার আগে যেসব সতর্কতা জরুরি টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলিতে সেনা সদস্যের প্রয়াণ নিউইয়র্ক সেনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা আবের কাওয়াস কাতার উপকূলে ট্যাংকারে হামলা ও হরমুজে অগ্নিকাণ্ড মূল্যস্ফীতির চাপে স্থবির পোশাকের বাজার, ৫০ শতাংশ ছাড়েও নেই ক্রেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাডমিন্টন কোর্ট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক তপু বর্মণ ধান চাষ ছেড়ে ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কর্ণফুলীর কৃষকরা সিংগাইরে ট্রিপল ট্র্যাজেডি: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের সেরা ইনিংস বেছে নিলেন কোহলি এআই উদ্ভাবনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: কুয়েতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্ধুকে নৃশংসভাবে মৃত্যুর ঘটনা