ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির মরদেহ আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে সড়কপথে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মোট নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে সময়সীমা ও আইনি জটিলতা এড়াতে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশি নিহতদের মরদেহ কলকাতার পার্ক সার্কাসের ‘পিস ওয়ার্ল্ড’-এ রাখা হয়েছিল। শনিবার সকালে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রোল স্থলবন্দর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। এই পাঁচজন হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম আলী এবং সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু।
সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবুর প্রতিবেশী এমডি সোহেল জানান, চিকিৎসার জন্য তিনিও কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। দেশ থেকে ফোন পেয়ে তিনি বাবুর হোটেলে থাকার বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে দুর্ঘটনার খবর পান। সোহেল বলেন, ‘সকাল থেকে থানা ও ডেপুটি হাই-কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে আজ মরদেহ বুঝে পেয়েছি। কিছু নথির কাজ বাকি আছে, সেগুলো শেষ হলেই আমরা মরদেহ দেশে নিয়ে যাবো। সংশ্লিষ্ট সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন।’
নিহতদের তালিকায় থাকা সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে কলকাতাতেই সৎকার করা হবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের মাধ্যমে শোকাবহ এই ঘটনার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।





