চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাসের গড় হার ৫২.১২ শতাংশ। এতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থীর ফলের অপেক্ষার অবসান ঘটে।
শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনলাইনে এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে রেজাল্ট সংগ্রহ করতে পারছেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইট (eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd) থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ফল জানা যাবে। এছাড়া যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও সহজে ফল পাওয়া যাচ্ছে।
গত ২ জুলাই দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ আগস্ট তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে বিলম্বিত পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করা হয় এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে তিনি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে Rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে শিক্ষা বোর্ড নির্বাচনের পর সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পরবর্তী ধাপে প্রতি পত্রের জন্য নির্ধারিত ১৫০ টাকা ফি বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে দুটি পত্রেরই আবেদন বাধ্যতামূলক। ফি প্রদানের আগে বিষয় সংশোধনের সুযোগ থাকলেও ফি পরিশোধের পর কোনো বিষয় বাতিল বা জমা দেওয়া ফি ফেরত পাওয়া যাবে না। তবে পরবর্তীতে নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে পুনরায় একই নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। যে বিষয় বা বিষয়গুলোর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।






