চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমে ২ হাজার ৯২৯ জনে নেমেছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২০১ জন বেশি। দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয় ২০১২ সালে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, বোর্ডের অধীন ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। তবে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এবারের এইচএসসিতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি। এরপর ২০২০ সালে করোনাকালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ পরীক্ষার্থীকে পাস করানো হয়।
লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো করেছে। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছে, যেখানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির। চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ, যা পুরো বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম জেলায় সামগ্রিক পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ এবং খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে এই বোর্ডে পাসের হারের ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তীতে তা ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮, ২০২৩ সালে ৭৪, ২০২৪ সালে ৭০ দশমিক ৪ এবং ২০২৫ সালে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। এবার সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে। তবে যারা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তারা আগামী এক মাসের মধ্যে আবারও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।






