বাংলাদেশের গণমাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল ভাষার ব্যবহার, প্রচলিত নীতিমালা পর্যালোচনা এবং মানসম্মত শব্দ চয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহারের নীতিমালা পর্যালোচনা ও যথাযথ শব্দ ব্যবহারের সুপারিশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে উঠে আসে গণমাধ্যমে প্রচলিত অনেক শব্দের নেতিবাচক প্রভাবের কথা। জঙ্গল সলিমপুর / বদলির আগে ‘সন্ত্রাসী’ ইয়াসিনের ৬৫ জমির বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি করলেন সাব-রেজিস্ট্রার হাবীব। ক্ষমতার পালাবদল হলেও ভিন্নমতের প্রতি হামলা কি থেমেছে।
গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিনহাজ উদ্দীন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদে ব্যবহৃত ভাষা কেবল তথ্য প্রদান করে না, বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা গঠনেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই নারী, পুরুষসহ সব লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের জন্য সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পল্টন হত্যাকাণ্ডের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে হাসিনাসহ জড়িতদের বিচারের দাবি জামায়াতের। আলভারেজ কাণ্ডে বার্সেলোনাকে নামমাত্র জরিমানা করল স্প্যানিশ ফেডারেশন। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম শুধু সমাজের দর্পণ নয়, মানুষের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গণমাধ্যমে বর্তমানে নারী ও অন্যান্য জেন্ডার পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আপত্তিকর ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক।
গবেষক মিনহাজ উদ্দীন জানান, মেটা ও অ্যালফাবেটভিত্তিক নতুন ধারার গণমাধ্যমে মানহানিকর শব্দের ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মূলত আধিপত্যবাদী, ভোগবাদী ও যৌনতুষ্টিমূলক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে, যা ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার ফলে আরও তীব্র হচ্ছে।
সেমিনারে তিনি বেশ কিছু উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এখনো ‘ডাইনি’, ‘অবলা’, ‘মহিলা’, ‘ধর্ষিতা’, ‘অপরাধী’, ‘হত্যাকারী মা’, ‘পাষণ্ড মা’, ‘ঘাতক মা’, ‘নারী কেলেঙ্কারি’, ‘নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক’, ‘পতিতা’, ‘বেশ্যা’, ‘ষোড়শী’, ‘স্বল্পবসনা’, ‘ঘসেটি বেগম’ ও ‘দেহপসারিণী’র মতো শব্দ নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া ‘শাহবাগী’, ‘লাল বদর’, ‘হেফাজতী’ ও ‘আধুনিকা’র মতো নতুন শব্দের ব্যবহারও সামাজিক সচেতনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মনে করেন।
পাশাপাশি ‘রাতভর ধর্ষণ’, ‘উপর্যুপরি ধর্ষণ’ এবং ‘হিজড়া’ শব্দের মতো কিছু অভিব্যক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে বলে গবেষক সতর্ক করেছেন। এ ধরনের শব্দ ও অভিব্যক্তির পরিবর্তে জেন্ডার সংবেদনশীল ও সম্মানজনক ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। উদাহরণস্বরূপ, ‘বেশ্যা’ বা ‘পতিতা’র স্থলে ‘যৌনকর্মী’, ‘মহিলা’র পরিবর্তে ‘নারী’ এবং ‘ধর্ষিতা’র বদলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এই গবেষণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন নীতিমালা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং তিনটি গভীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। সেমিনারে আলোচক হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন, দেশ টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় দে রিপন অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, ‘লেখনীতে সমতা’ শীর্ষক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও আন্ত-বিভাগীয় প্রকল্পের আওতায় প্লান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশন ও কিংডম অফ নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের বাইরেও নানা কারণে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এইচএসসি পরীক্ষার ফল ৩১ অক্টোবর প্রকাশ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত বিতর্ক। এইচএসসির ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর: জানা যাবে যেভাবে। ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ, বিতর্কের কারণেই আলোচনায় বেশি। এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর।






