বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। গতকাল শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২৮-১৯ গোলে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে সফরকারীরা। চার দলের এই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধি দলকে।
এর আগে লীগ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালের মঞ্চে সেই ধাক্কা সামলে উঠে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিকরা। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় আক্রমণের একের পর এক ঢেউ সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় বাংলাদেশ দলকে। অন্যদিকে নিশি ও সাকিবাদের কয়েকটি জোরালো আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন ভারতের গোলরক্ষক দিকশা কুমারী। পোস্টের নিচে তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে বারবার গোলবঞ্চিত করে। প্রথমার্ধের লড়াই শেষে ভারত ১৪-৯ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলায় ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা চালায় স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার শিষ্যরা। তবে ভারতের গতিময় আক্রমণ ও সুসংগঠিত কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয় তাদের। ম্যাচের শেষ অর্ধেও বাংলাদেশ দল সমপরিমাণ অর্থাৎ ১৪টি গোল হজম করে। দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের সুবাদে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন ভারতের দিকশা কুমারী।
লিগ পর্বে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও টুর্নামেন্টের অন্য দুই প্রতিপক্ষ নেপাল ও মালদ্বীপের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারানোর পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষেও একই ৩৩-২০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। পাঁচ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল শুরুর আগে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। সেখানে মালদ্বীপকে ২৭-১৫ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের করে নেয় নেপাল।
শিরোপা না জিতলেও আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিয়মিত খেলার আকুতি জানিয়েছেন বাংলাদেশের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়েরা। দলের এমন পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা তো টুর্নামেন্ট পাই না। আমরা ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক গেমস খেলেছি, তারপর আবার ২০২৪ সালে এসে খেললাম। আমরা যদি প্রতিনিয়ত এ রকম আন্তর্জাতিক গেম পাই, তাহলে আমরাও অনেক ভালো করতে পারবো। কারণ যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবো, তত বেশি উন্নতি হবে। খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচিউরিটি আসবে, দক্ষতা বাড়বে এবং তারা আরও ভালো করবে।’






