রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মসজিদের সামনে থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে মোটরসাইকেল চুরির একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে তা গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসে। গত ২ অক্টোবর বিকেলে সলিমুল্লাহ রোডের বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ফুটেজে দেখা যায়, বিশেষ উপায়ে তৈরি লোহার চাবি ব্যবহার করে খুব দ্রুত মোটরসাইকেলের লক ভেঙে নিয়ে চোর পালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনার সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ তদন্তে নামে এবং চক্রটিকে শনাক্ত করে। বাইরে মোটরসাইকেলটি লক করে আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছিলেন এক ব্যক্তি।
ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রাজধানীসহ দেশের তিন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে আন্তজেলা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল, মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি, ফয়সাল, সৌরভ, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক ওরফে মাসুম।
অভিযানকালে পুলিশ তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ৯টি মোটরসাইকেল, লক ভাঙার বিশেষ কৌশলে তৈরি দুটি লোহার চাবি এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা জব্দ করেছে। অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, চোরাই মোটরসাইকেলগুলো প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করত চক্রটি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তারা রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা ও বিভিন্ন মসজিদের সামনে রাখা মোটরসাইকেলগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানাতেন।
তদন্ত অনুযায়ী, রাজধানী থেকে চুরি করার পর গাড়িগুলো অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো। প্রথমে সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় রাব্বি। তাদের দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও সৌরভকে এবং নোয়াখালীর চাটখিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাপ্পু ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল, সৌরভ, পাপ্পু ও মাসুমের কাছ থেকে এই চোরাই মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, যা তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম দামে বিক্রি করে আসছিল।






