মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুলছাত্রীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। গত ১৪ অক্টোবর স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। নিখোঁজদের মধ্যে দুজন ভাগ্যকুল হরেন্দ্র লাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এবং একজন দারুল উলুম মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্বজনরা শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গত ১৭ অক্টোবর ভোর সাড়ে চারটার দিকে কক্সবাজারের ‘গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং রোববার তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রীরা মায়ের চিকিৎসার জন্য জমানো নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীরা জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তি, মা-বাবার মনোমালিন্য এবং নানাবিধ মানসিক চাপের কারণে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এক অটোরিকশাচালকের সহায়তায় তারা ওই হোটেলের একটি কক্ষ ২০ হাজার টাকায় তিন দিনের জন্য ভাড়া করেছিল বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেম ‘ফ্রি ফায়ার’-এর মাধ্যমে রাঙামাটি এলাকার এক কিশোরের সঙ্গে ওই ছাত্রীদের পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। নিখোঁজের ঘটনায় ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা নিয়েও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়া, টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগের কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমের অপব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হচ্ছে। সন্তানদের অনলাইন ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।






