প্রাথমিক সাংগঠনিক পরিবর্তন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন নিজ নিজ পদে বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি। ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৫৪। দ্য গ্রেট আবুধাবি এস্কেপ / পাগলাটে শেষ সেশনে যেভাবে ম্যাচ বাঁচাল আফগানিস্তান।
নতুন নেতৃত্ব ও কাঠামোগত বিন্যাস
- আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব: নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন (বহাল থাকার সম্ভাবনা)।
- জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ (প্রস্তাবিত)।
- জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সারজিস আলম (প্রস্তাবিত)।
- রাজনৈতিক পর্ষদ: ১৬ জন সদস্য বিশিষ্ট।
নতুন এই নেতৃত্ব কাঠামোতে অন্তত ১০ জন সদস্য যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দলের রাজনৈতিক পর্ষদ পুনর্গঠন ও ১৬ সদস্যের পর্ষদ গঠনের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহর মতো নেতাদের আরও দায়িত্বশীল পদে আনা হচ্ছে। এর বিপরীতে বর্তমান মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাংগঠনিক ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এগুলো সংগঠন, অর্থায়ন, গণমাধ্যম এবং জননীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করবে।
পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপট ও কারণ
দলীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে রাজনৈতিক পর্ষদ দুই দফা বৈঠক করে পুনর্গঠনের এই কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। মূলত জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে দলের ভেতরে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তা এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মূলত সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়তা কমে গিয়েছিল। দলীয় নীতি নির্ধারণী দায়িত্বের পাশাপাশি বিশেষায়িত উপকমিটি ও সেলগুলোর তত্ত্বাবধান করবেন তারা।
দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিশেষায়িত সেল
এনসিপি তাদের দলকে আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রায় ৩০টি বিশেষায়িত পোর্টফোলিও বা সেল গঠনের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসত্তাবিষয়ক সেল এবং জাতীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান জোট গঠনের উদ্যোগ, যা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে সারজিস আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বিশেষ সাংগঠনিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ। এই প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের প্রভাব ও পরিধি বিস্তৃত করা।
নারী সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তন
এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র শীর্ষ নেতৃত্বেও আসছে পরিবর্তন। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এই পদের জন্য মাহমুদা আলম মিতু, মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, হুমায়রা নূর ও মঞ্জিলা ঝুমার নাম আলোচনায় আছে।
রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং পরবর্তীতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখেই এই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। শরীয়তপুর ও মাদারীপুর সফর শেষে নাহিদ ইসলাম ঢাকায় ফিরলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনগুলো ঘোষণা করা হবে। পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ও রাজনৈতিক পর্ষদের তালিকা প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার ঘোষণার কথা ছিল।






