সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করতে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক চালককে। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি দল। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি এলাকা থেকে ইকরামুল হক নামের ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ উত্তরপাড়ায়। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় এসআরবি-১১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি কলাবাগানে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন। কলাবাগান থেকে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তি ইকরামুলকে দেখতে পেয়ে তাঁর ভিডিও ধারণ করেন। ওই সময় ইকরামুল নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, শনিবার বিকেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ইকরামুল তাঁকে নির্জন কলাবাগানে নিয়ে যান।
বিষয়টি এক ব্যক্তির নজরে এলে তিনি ইকরামুলকে আটক করে অটোরিকশার চাবি নিয়ে নেন এবং ভারসাম্যহীন নারীর সঙ্গে এমন কাজের কারণ জানতে চান। তখন ইকরামুল নিজের অপরাধ স্বীকার করে ভুল হয়েছে বলে জানান। ভিডিওটি নজরে আসার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইকরামুলকে আটক করে এসআরবি-১১। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানান, অটোরিকশাচালককে থানায় আনার পর তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলটি মহাসড়কের শামুকসার এলাকায় হওয়ায় তা চৌদ্দগ্রাম থানার অধীন পড়ে। এরপর এসআরবির সদস্যরা তাঁকে চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে যান। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এসআরবি-১১ সিপিসি-২-এর উপপরিচালক ও কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। ঘটনাস্থলটি দুই থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুই থানার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন এবং খুব দ্রুত যেকোনো একটি থানা আসামini গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




