ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক ও প্রাণঘাতী হামলার কারণে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উড়োজাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন অ্যানালিটিকস ফার্ম সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার রিয়াদে নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। এর আগের দিন রোববার পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ; ওইদিন বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর পরিসংখ্যান বলছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে আজ প্রায় ৭৮ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব হামলায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে, যার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সেই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে একই এলাকায় আরেকটি পৃথক হামলায় একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছিলেন। এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গতকাল বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং সৌদি আরবজুড়ে আজ এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।
এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করছে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম ফ্লাইট স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়ে অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার বা দেশটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন বিমান সংস্থা সৌদি আরবে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। তাদের এই স্থগিতাদেশ চলবে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত।






